ইমরানের হুঁশিয়ারি

পাকিস্তানের পরিণতি হবে শ্রীলঙ্কার মতো

শিগগির পাকিস্তানেরও শ্রীলঙ্কার মতো পরিণতি হবে এবং জারদারি ও শরিফ পরিবারের ‘মাফিয়া’দের বিরুদ্ধে জনগণ রাস্তায় নেমে আসবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন ক্ষমতাচ্যুত ইমরান খান।    

গত শনিবার মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারে এই হুঁশিয়ারি দেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তার অভিযোগ, আসিফ জারদারি এবং শাহবাজ শরিফের পরিবারের নেতৃত্বধীন মাফিয়ারা দেশকে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসের কাছাকাছি নিয়ে গেছে।   

জারদারি ও শরিফ পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে টুইটারে ইমরান লিখেছেন, ‘বিগত ৩০ বছর ধরে পাকিস্তানকে লুট করে তৈরি করা নিজেদের অবৈধ সম্পদ টিকিয়ে রাখতে তারা পুরো দেশকে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস করছে। আমার প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কতক্ষণ এসব চলতে দেবে?’ 

এই পরিস্থিতির শিগগির অবসান হবে দাবি করে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের সভাপতি আরও লিখেছেন,’ পাকিস্তানের জনগণ যথেষ্ট সহ্য করেছে এবং মাফিয়াদের এই লুটপাট আর তারা মেনে নেবে না। আমরা শ্রীলঙ্কা পরিস্থিতি থেকে খুব বেশি দূরে নেই, আমাদের জনগণ রাস্তায় নেমে আসবে।’ 

পাকিস্তানের পাঞ্জাবে ডেপুটি স্পিকারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের ছেলে হামজা শরিফকে মুখ্যমন্ত্রী করা এবং এর বিরুদ্ধে পিটিআইয়ের আইনি লড়াই শুরুর পর টুইটারে এসব লিখলেন ইমরান।

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের পার্লামেন্টে বেশিরভাগ আইনপ্রণেতা মুখ্যমন্ত্রী পদে ইমরানের দল পিটিআই সমর্থিত প্রার্থীকে ভোট দেন। কিন্তু ডেপুটি স্পিকার ওই প্রার্থীর পক্ষে দেওয়া দশজনের ভোট বাতিল করে দিয়ে পাকিস্তান মুসলিম লীগ নওয়াজের (পিএমএল-এন) প্রার্থী হামজাকে জয়ী ঘোষণা করেন। এর আগে পাঞ্জাবের উপনির্বাচনে ২০টি আসনের ১৫টিই জিতে নেয় ইমরানের দল।

এরকম রাজনৈতিক সংকট ছাড়াও নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটে আছে পাকিস্তান। ইতিমধ্যে পেট্রল, ডিজেল, কেরোসিনের দাম আরও বাড়িয়েছে দেশটির সরকার। পাকিস্তানি রুপির দর কমছেই, এখন ১ ডলারের কিনতে গুনতে হচ্ছে ২২৫ পাকিস্তানি রুপি। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পর পাকিস্তানি রুপির এমন পতন কখনোই দেখেনি দেশটি।

এমন পরিস্থিতিতে গত ১৬ জুন রাওয়ালপিন্ডিতে পিটিআইয়ের এক সমাবেশেও পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার মতো চরম সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছিলেন ইমরান।  

এদিকে শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতি এড়াতে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার।