পুলিশের ভয়ে পালিয়ে থাকা বৃদ্ধের লাশ মিলল ক্ষেতে

জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মামলায় পুলিশের ভয়ে রাতে পালিয়ে থাকার পর দিন বাড়ির অদূরে ঘাসক্ষেতে বৃদ্ধের মরদেহ পাওয়া গেছে।

রবিবার বিকেল ৩টার দিকে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ধল্লা খান পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে পুলিশ হাজি যদু খান (৭৫) নামের ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে।

নিহত হাজি যদু খান ওই গ্রামের মৃত আব্দুল হালিম খানের ছেলে। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে যদু খান খুন হয়েছেন বলে পরিবারের দাবি।

নিহতের পরিবার অভিযোগ করেন, গভর্নমেন্ট অফিসার্স মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড প্রতিপক্ষ লোকজনের কাছ থেকে বিরোধপূর্ণ জমি কিনে ভেকু দিয়ে মাটি ভরাট করে দখলের চেষ্টা করে। এ সময় হাজি যদু খানসহ তার পরিবারের লোকজন বাধা দেন। এতে গভর্নমেন্ট অফিসার্স মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির পক্ষ থেকে যদুর ছেলেসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ ও আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে চাঁদাবাজির অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলায় গত শনিবার রাতে যদুর ভাতিজা আছান খানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। যদুর পরিবারসহ অন্য আসামিদের বাড়িতে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় থানা-পুলিশ। রাতেই পুলিশের ভয়ে অন্যত্র গা-ঢাকা দেন হাজি যদু খানসহ মামলার অন্য আসামিরা।

গতকাল রবিবার পালিয়ে থাকা পরিবারের অন্য লোকজন বাড়ি ফিরলেও বিকেলে হাজি যদু খানের লাশ মিলে বাড়ির অদূরে উত্তর পাশে ঘাসক্ষেতে।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় খলিল মিয়ার মেয়ে মরিয়ম জানান, দুপুরের দিকে মুখোশধারী ৪ ব্যক্তি যদুর লাশটি ফেলে রেখে দৌড়ে পালিয়ে যায়। তার চিৎকারে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসে। খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

নিহতের ছোট ছেলে আতাল হক খান বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির পাশাপাশি প্রতিপক্ষদের দিয়ে আমার বাবাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়।

এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন তিনি।

এদিকে, লাশের গলায় ও বাম চোখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

তবে সিংগাইর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হানিফ জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ছাড়া কিছুই বলা যাচ্ছে না। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। জড়িত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খানসহ পুলিশের অন্য কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।