জ্বালানি সংকটে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি হুমকি তৈরি হয় গত মে মাসে। ওই সময় থেকে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে উৎপাদন বন্ধ আছে। তখন থেকে মজুদ কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র আংশিক উৎপাদনে আছে। কয়লা উৎপাদন কবে নাগাদ শুরু হবে সেটা নিশ্চিত না হওয়ায় জ¦ালানি সংকটের মুখে পড়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে পরিমাণ কয়লা মজুদ থাকার কথা তার চেয়ে কম থাকায় টেনেটুনে আসছে আগস্ট মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হলেও এরপর বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ কারণে আগস্ট মাসে উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলায় লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ৫২৫ মেগাওয়ার্ট উৎপাদন ক্ষমতার বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ। এই ইউনিট ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার হলেও উৎপাদন হতো ৮৫ মেগাওয়াট। সংস্কার কাজ চলায় ২ নম্বর ইউনিটে উৎপাদন এখন বন্ধ আছে। একই ক্ষমতার এই ইউনিটে আগে উৎপাদন হতো ৮০ মেগাওয়াট। ৩ নম্বর ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ২৭৫ মেগাওয়াট। এ ইউনিটে এখন প্রতিদিন ১৭৫ থেকে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এর জন্য প্রতিদিন ২ হাজার ১০০ টন কয়লা লাগছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রায় ৩৫ হাজার টন কয়লা মজুদ আছে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে। তারা প্রতিদিন তিন হাজার টন কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করে। এই মজুদ দিয়ে আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির সরবরাহকৃত কয়লার ওপর নির্ভর করে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চলে। গত ১ মে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির পুরনো ১৩১০ নম্বর কূপ থেকে কয়লা উত্তোলন শেষ হয়। এখন নতুন ১৩০৬ নম্বর কূপ থেকে কয়লা উত্তোলনের প্রক্রিয়া চলছে।

সদ্য নিয়োগ পাওয়া বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. সাইফুল ইসলাম সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগামী আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে আবার কয়লা উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি। এখন যা মজুদ আছে তা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।’

১৩১০ নম্বর কূপের উৎপাদন বিবেচনায় নতুন কূপে ৩ হাজার টনের কিছু বেশি হতে পারে। অর্থাৎ এই কূপটি উৎপাদনে এলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সমস্যার কিছুটা হলেও সমাধান হবে।

তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী এসএম ওয়াজেদ আলী সরকার বলেন, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদিত কয়লার ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে যে কয়লা মজুদ রয়েছে তা দিয়ে আগস্ট মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এরপর কয়লা সরবরাহের ওপর নির্ভর করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি ভাবা হবে।

অবশ্য তিনি দাবি করেন, বর্তমানে ২ নম্বর ইউনিট ও ৩ নম্বর ইউনিট উৎপাদনে আছে। এ দুই ইউনিট থেকে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে ৩০০-৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হচ্ছে। ২ নম্বর ইউনিট বন্ধ থাকলে কীভাবে উৎপাদন সম্ভব জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।