যাত্রীর অভাবে বন্ধ নৌপথের গ্রিন লাইন

বরিশাল-ঢাকা নৌপথে চলাচলকারী দ্রুতগামী জলযান এমভি গ্রিন লাইনের যাত্রী পরিষেবা আপাতত বন্ধ করে দিয়েছে পরিচালনা কর্র্তৃপক্ষ। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকা প্রান্ত থেকে নৌযানটির পরিষেবা স্থগিত করা হয়। এর আগে সোমবার রাতে নিজেদের ফেইসবুক পেজে এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেয় গ্রিন লাইন কর্র্তৃপক্ষ। তবে যাত্রী পরিষেবা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হলো কিনা তা ওই ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়নি।

ঘোষণায় বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ২৬ জুলাই থেকে গ্রিন লাইনের ঢাকা-বরিশাল ভায়া হিজলা নৌপথে চলাচলকারী জাহাজের সার্ভিস বন্ধ থাকবে। তবে ঢাকা-কালীগঞ্জ-ইলিশা রুটের এমভি গ্রিন লাইন-২ নিয়মিত চলাচল করবে।

যাত্রীদের দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার নিশ্চয়তা নিয়ে ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর চালু করা হয়েছিল এই দিবা যাত্রীসেবা। মাত্র পাঁচ ঘণ্টায় বরিশাল থেকে ঢাকা পৌঁছে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে এই সেবা চালু করেছিল গ্রিন লাইন ওয়াটারওয়েজ।

এদিকে হঠাৎ করে গ্রিন লাইনের যাত্রী পরিষেবা স্থগিত করায় জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর এই নৌপথে যাত্রীর চাপ কমবে বলে আলোচনা ছিল। এ নিয়ে লঞ্চ মালিকরাও বেশ উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। তবে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের প্রথম কয়েকদিনের পর যাত্রী খরা কেটে যায় ঈদুল আজহার যাত্রী সমাগমে। কিন্তু ঈদের পর ঘর ও কর্মস্থলমুখী যাত্রীর চাপ কমে যাওয়ায় ফের এই নৌপথে যাত্রী সংখ্যা অনেকটা কমে যায়। গ্রিন লাইনের যাত্রীসেবা স্থগিতের মধ্য দিয়ে যাত্রী খরার সেই আশঙ্কা আবার সামনে এলো।

গত ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হয়। পরদিন সেতুটি যান চরাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই বরিশালসহ দক্ষিণের নৌপথে যাত্রী সংকট দেখা দেয়। সড়কপথে চাপ বাড়ে যাত্রীর। অন্তত ৫০০ নতুন বাস বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন সড়কপথে যাত্রী পরিষেবায় যুক্ত হয়।

দ্রুতগামী জলযান গ্রিন লাইনের যাত্রী পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে গতকাল দুপুরে গ্রিন লাইন পরিবহন ও ওয়াটারওয়েজের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. আব্দুস ছাত্তার বলেন, ‘ঈদের পরে ১০০ যাত্রীও হচ্ছিল না। আসলে পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পরে যাত্রী কমে গেছে। অনেকেই প্রস্তাব দিয়েছিলেন ভাড়া কমাতে। তবে ক্যাটামেরান সার্ভিস পরিচালনায় ট্রিপ প্রতি খরচ বেশি। তাছাড়া আমরা পর্যালোচনা করে দেখেছি ভাড়া কমালেও যাত্রী তেমন বাড়বে না। অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী ডিজেলের দাম বেড়েছে। ফলে ট্রিপ খরচ তোলা নিয়েই শঙ্কা রয়েছে। ভাড়া কমিয়ে লঞ্চ সার্ভিস দেওয়া সম্ভব নয়। ক্যাটাম্যারান সার্ভিস অব্যাহত রাখা অসম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, ‘এমভি গ্রিন লাইন-৩ এ কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি রয়েছে। সেটি মেরামত করতে ডকে নিতে হবে। এতে কমপক্ষে ১৫ দিন সময় লাগবে। তবে এখনই আমরা বলতে পারছি না ঢাকা-হিজলা-বরিশাল রুটে আবারও সার্ভিসটি চালু করা হবে কিনা।’

গ্রিন লাইনের বরিশাল কাউন্টারে যোগযোগ করা হলে হিসাবরক্ষক আল আমিন বলেন, ‘গ্রিন লাইনের নৌপথের সার্ভিসটি আপাতত বন্ধ থাকবে। তবে এটা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়েছে এমন ঘোষণা দেওয়া হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর নৌপথে যাত্রী কমে যায়। মূলত এই কারণেই আপাতত সার্ভিসটি স্থগিত করা হয়েছে। অবস্থা বুঝে আগামী মাসে পুনরায় সার্ভিসটি চালু হতে পারে।’