পুলিশের গুলিতে প্রাণ গেল মায়ের কোলে থাকা শিশুর

ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে ইউপি নির্বাচনে দুই সদস্য (মেম্বার) প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ ঠেকাতে পুলিশের ছোড়া গুলিতে ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে বাচোর ইউনিয়নের ভাংবাড়ি ভিএফ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সুমাইয়া ওরফে আশা একই ইউনিয়নের মীরডাঙ্গী গ্রামের বাদশার মেয়ে। গুলিতে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যায় শিশুটির মাথা। এ ঘটনার প্রতিবাদে নিহত শিশুর মরদেহ নিয়ে সড়ক অবরোধ করে তার আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী।

জানা গেছে, ভোটের ফলাফল জানতে শিশু সুমাইয়াকে কোলে করে ভাংবাড়ি ভিএফ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সামনে যান মা মিনারা বেগম। এ সময় ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্য প্রার্থী জলিল ও ফয়জুল ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ গুলি ছোড়ে। এ সময় একটি গুলি শিশু সুমাইয়ার মাথায় লাগে। এতে মাথা ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।

তবে ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন পুলিশের ছোড়া গুলিতে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে। রাবার বুলেটে কেউ মারা যাওয়ার কথা নয়। আমরা এখনো নিশ্চিত হয়নি ওই শিশু কীভাবে মারা গেছে।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্বাচনী সহিংসতায় একটি শিশু নিহতের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’ এদিকে হোসেনগাঁও ইউনিয়নের ভবানিডাঙ্গীতে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশসহ ৯ জন আহত হয়েছে।

জেলার রানীশংকৈল উপজেলার হোসেনগাঁও, বাচোর ও নন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ গতকাল সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়। শেষ হয় বিকাল ৪টায়। তিনটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মোট ১৭ জন, মেম্বার পদে ৮৭ জন ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের জন্য ৪৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।