বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি বা সংকট নেই। সংকটের কোনো আশঙ্কাও নেই। ইতিমধ্যে আগামী ৬ মাসের জন্য প্রয়োজনীয় জ¦ালানি তেল আমদানির প্রক্রিয়া পাইপলাইনে আছে। গতকাল বুধবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অকটেন ও পেট্রোলের মজুদ ফুরিয়ে আসছে একটি গণমাধ্যমে এমন প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর তা ফেইসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরে অবশ্য গণমাধ্যমটি অনলাইন থেকে প্রতিবেদনটি সরিয়ে নেয়। কিন্তু তার আগেই হুজুগে কেনাকাটায় (প্যানিক বায়িং) সারা দেশের জ্বালানি তেলের বাজার অস্থির হয়ে যায়। এই ঘটনাকে স্বার্থান্বেষী মহলের জ্বালানি তেলের মজুদ নিয়ে অসত্য ও মনগড়া প্রতিবেদন হিসেবে উল্লেখ করেছে জ্বালানি বিভাগ। গতকাল জ্বালানি বিভাগের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওই বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আওতাধীন কোম্পানির সারা দেশের বিভিন্ন ডিপোতে যথেষ্ট পরিমাণ জ্বালানি তেলের মজুদ রয়েছে।
এদিকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পেট্রোল পাম্পগুলোতে খবর নিয়ে জানা গেছে, সেখানে তেল নিতে আসা কাউকে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি তেল নিতে বাধ্য করা হয়নি বা জ্বালানি তেলে কোনো রেশনিং করা হয়নি। এখন পর্যন্ত জ্বালানি বিভাগ পেট্রোল, অকটেন, ডিজেলসহ জ্বালানি তেল কেনার ক্ষেত্রে কোনো সীমা নির্ধারণ করে দেয়নি। তবে ভর্তুকি মূল্যে সরবরাহ করা জ্বালানি তেল ব্যবহারে মিতব্যয়ী ও সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে মানুষের প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে।
জ্বালানি তেলের মজুদের পরিমাণ : জ্বালানি বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে গতকাল ২৭ জুলাই পর্যন্ত ডিজেলের মজুদ রয়েছে ৪ লাখ ৩১ হাজার ৮৩৫ টন। দিনে ডিজেলের গড় বিক্রি ১৩ হাজার ৬০৭ টন। এ হিসেবে দেশে ৩২ দিনের ডিজেলের মজুদ রয়েছে। জেট ফুয়েলের মজুদ আছে ৪৪ দিনের ও ফার্নেস অয়েলের মজুদ রয়েছে ৩২ দিনের। অর্থাৎ আমাদের মজুদ সক্ষমতা অনুসারে যথেষ্ট পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি জুলাই মাসের মধ্যে জ্বালানি তেল নিয়ে দেশে আসবে আরও নয়টি জাহাজ। ইতিমধ্যে ২ লাখ ৫৫ হাজার টন ডিজেল, ৪৩ হাজার টন জেট ফুয়েল, ২৪ হাজার ৬৭৭ টন অকটেন এবং ৫৩ হাজার ৩৫৮ টন ফার্নেস অয়েল জাহাজ থেকে খালাস করা হয়েছে। আগামী আগস্ট মাসে ২ লাখ ১৮ হাজার টন ডিজেল, ২৫ হাজার টন জেট ফুয়েল ও ২৫ হাজার টন অকটেন আসবে।
জ্বালানি তেল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বিপিসির দাবি, দেশে অকটেনের মজুদ রয়েছে ৪০ দিনের, পেট্রোল ২২ দিনের, ডিজেল ৩২ দিনের ও ফার্নেস অয়েলের মজুদ রয়েছে ২৪ দিনের।
প্রসঙ্গত, দেশে বিপিসি জ্বালানি তেল মজুদ রাখতে পারে সর্বোচ্চ ৪০ দিনের। তবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী জ্বালানি তেলের মজুদ থাকার কথা ৬০ দিনের।
দেশের গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপন্ন গ্যাসের সহউপজাত কনডেনসেট থেকে আসে অকটেনের ৪০ শতাংশ। বাকিটা আমদানি করতে হয়। আর পেট্রোলের পুরোটাই দেশের কনডেনসেট পরিশোধন করে উৎপাদন করা হয়। ফলে পেট্রোল ও অকটেনের কোনো ঘাটতি নেই বলে বিপিসির দাবি।
আগামী ছয় মাসের আমদানি পরিকল্পনা অনুসারে জ্বালানি তেল বাংলাদেশে আসবে। এর ৫০ শতাংশ সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জি-টু-জি চুক্তির ভিত্তিতে। বাকি ৫০ শতাংশের জন্য উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছে।