বিচারাধীন মামলার চুরি যাওয়া নথির ছেঁড়া অংশ মিলল আদালতের ছাদে

নেত্রকোনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে বিচারাধীন মামলার নথি চুরির ঘটনা ঘটেছে।

চুরি যাওয়া নথির ওকালতনামা, রাষ্ট্র ও আসামি দুপক্ষের হাজিরা ও সময়ের আবেদন এই সব কাগজপত্রের ছেঁড়া অংশ পাওয়া গেছে আদালতের ছাদে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্টেনোগ্রাফার কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. জলিলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে নেত্রকোনা মডেল থানা-পুলিশ।

বুধবার বিকেলে গ্রেপ্তারকৃত সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-১ (সদর কোর্ট) পাঠালে অভিযুক্ত জলিলুর রহমান ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে ওই আদালতের বিচারক অঞ্জন কান্তি দাস অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠান।

এর আগে গত সোমবার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির মুহাম্মদ নুরুজ্জামান বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, অভিযুক্ত জলিলুর রহমান আদালতে ঘটনার সঙ্গে আরও দুজন জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। আদালত তাকে জেলে প্রেরণ করেন।

ওসি আরও জানান, গত ২১ জুলাই (বৃহস্পতিবার) দুপুরের দিকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের স্টেনোটাইপিস্ট কাম কম্পিউটার অপারেটর ফারুক আহমেদ বিচারাধীন একটি মামলার সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরার কিছু অংশ কম্পিউটারে কম্পোজ করার পর বিদ্যুৎ চলে যায়। নথিটি তার পাশের টেবিলে রেখে দুপুরের খাবার ও নামাজের জন্য তিনি চলে যান। ফিরে এসে অবশিষ্ট অংশ কম্পোজের জন্য নথিটি খুঁজে না পেয়ে সকলকে অবগত করেন।

খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ওই দিন বিকেলের দিকে আদালত ভবনের ছাদে হারানো নথির ওকালতনামা, রাষ্ট্র ও আসামি দুপক্ষের হাজিরা ও সময়ের আবেদন এই সব কাগজপত্রের ছেঁড়া অংশ পাওয়া যায়।

আদালতের নাজির মুহাম্মদ নুরুজ্জামান (মামলার বাদী) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে চুরি যাওয়া নথির ছেঁড়া অংশগুলো জব্দ করে জানান তিনি।

এ ঘটনায় গত ২৫ জুলাই বাদী থানায় অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগটি ওই দিন রাতে থানায় রেকর্ডভুক্ত করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার রাতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং বুধবার আসামিকে আদালতে প্রেরণ করে থানা-পুলিশ।