চলন্ত বাসে ছাত্রীর শ্লীলতাহানি, চালক সহকারী গ্রেপ্তার

রাজধানীর আজিমপুরে চলন্ত বাসে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে বাসচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বুধবার ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে মাহবুবুর রহমান নামে ওই চালক এবং ঢাকার বাইরে থেকে তার দুই সন্দেহভাজন সহযোগীসহ আটক করা হয়। এর আগে গত রবিবার রাতে ধানম-ি থেকে আজিমপুরের বাসায় যাওয়ার পথে বিকাশ পরিবহনের একটি বাসে যৌন নিপীড়নের শিকার  হন ওই ছাত্রী। তিনি ওই ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ না করলেও এ সংক্রান্ত তার ফেইসবুক পোস্ট দেখে সক্রিয় হয় পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. কুদরত-ই-খুদা দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার হওয়া বাসচালক মাহবুবুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সময় তার সহযোগী সন্দেহে দুজনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের মধ্যে প্রকৃত দোষীকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ শুক্রবার আদালতে পাঠানো হবে।

পুলিশ কর্মকর্তা কুদরত-ই-খুদা বলেন, ঘটনার শিকার ছাত্রী গত ২৪ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে ধানম-ি থেকে আজিমপুর যাওয়ার জন্য বিকাশ পরিবহনের (ঢাকা-মেট্রো-ব-১২-০৬০৫) একটি বাসে ওঠেন। বাসে ওঠার পর গান শুনতে শুনতে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ৯টা ১০ মিনিটে তার শরীরে কারও হাতের স্পর্শে ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় তিনি তার পাশের সিটে বাসের হেলপারকে বসে থাকতে দেখেন। তখন ওই বাসে তিনি ছাড়া আর কোনো যাত্রী ছিল না।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থী বুঝতে পারেন তার সঙ্গে খারাপ কিছু করার পরিকল্পনা করছে বাসচালক ও হেলপার। নিজেকে বাঁচাতে তিনি বাস থেকে নামার চেষ্টা করলে হেলপার পেছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে ও এক হাতে মুখ চেপে ধরে। ছাত্রী বাস থামাতে চিৎকার করলেও চালক আরও দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাতে থাকে। একপর্যায়ে আজিমপুর গার্লস স্কুলের কাছে বাসটি কিছুটা গতি কমালে ছাত্রী লাফ দিয়ে বাস থেকে নেমে আত্মরক্ষা করেন।’

ঘটনার শিকার ওই ছাত্রী যৌন নিপীড়নের বিষয়ে পুলিশে কোনো অভিযোগ না করে তার ফেইসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন জানিয়ে কুদরত-ই-খুদা বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এলে ওই ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলে এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করি। পরে বিভিন্নভাবে অনুসন্ধান করে গত বুধবার আশুলিয়া থেকে বাসচালক মাহবুবুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা বাসটির হেলপারকে গ্রেপ্তারের জন্য ঢাকার বাইরে অভিযান পরিচালনা করি। এরই একপর্যায়ে একই বাসের একই নামে দুজন সহকারীকে শনাক্ত ও আটক করে থানায় নিয়ে এসেছি। এখন প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে। এ ঘটনায় লালবাগ থানায় একটি মামলা হয়েছে।’