কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

শৃঙ্খলা লঙ্ঘনকারী শিক্ষককে নিয়ে শৃঙ্খলা কমিটি!

ভর্তি পরীক্ষার তথ্য পাচার ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ভর্তি কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিযোগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক মো. মাহবুবুল হক ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়টির সিন্ডিকেট সভায়। তবে ওই সিদ্ধান্তের ১৩ মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাকে নিয়েই আসন্ন ভর্তি পরীক্ষার শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে হতবাক ও ক্ষুব্ধ অনেক শিক্ষক। তারা বলছেন, মাহবুবুল হক ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে শৃঙ্খলা কমিটিতে যুক্ত করার অর্থ হলো তাকে পুরস্কৃত করা।

জানা গেছে, ২০২১ সালের ২৭ জুন ৮০তম সিন্ডিকেট সভায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাহবুবুল হক ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবিধি অনুসরণ করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। সিন্ডিকেটে বলা হয়, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল নিয়ে গণমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তথ্য সরবরাহের বিষয়টি প্রমাণিত হয় মাহবুবুল হক ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। সে সময়ে উচ্চতর তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বর্তমান ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় উচ্চতর তদন্ত হয়েছে। কমিটির সবাই এ বিষয়ে একমত। এটি প্রমাণিত যে মাহবুবুল হক ওই তথ্য সরবরাহ করেছেন এবং তিনিই এর জন্য দায়ী।

এই মাহবুবুল হককেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার শৃঙ্খলা রক্ষায় গঠিত কমিটির সদস্য করা হয়েছে। গত ১৪ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকীকে আহ্বায়ক করে ১৬ সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়। যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভর্তি পরীক্ষার মতো একটি সংবেদনশীল বিষয়ে তথ্য পাচার করে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো ভর্তি কার্যক্রমকে প্রশ্নের মুখে ফেলার পরেও কীভাবে এই শিক্ষক শৃঙ্খলা কমিটিতে থাকেন তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রম অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। যেখানে একজন শিক্ষক এর আগে ভর্তি কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য সরবরাহ করেন এবং উচ্চতর তদন্ত কমিটিতে সেটি প্রমাণ হয়। কিন্তু সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো শৃঙ্খলা কমিটিতে যুক্ত করার অর্থ হলো তাকে পুরস্কৃত করা। বিষয়টি স্বাভাবিক নয়।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাহবুবুল হক ভূঁইয়া এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘এটা আমার কনফিডেনশিয়াল (গোপনীয়) বিষয়। এ নিয়ে আপনার সঙ্গে কথা বলব না।’

মাহবুবুল হককে শৃঙ্খলা কমিটিতে অন্তর্ভুক্তের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ওই কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

মাহবুবুল হকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে গঠিত উচ্চতর তদন্ত কমিটির তৎকালীন আহ্বায়ক ও বর্তমান ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘তদন্ত শেষে প্রতিবেদন আমি উপাচার্যের কাছে জমা দিয়েছিলাম। উপাচার্য সেটি সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করেছিলেন। এরপর আর আমার সংযুক্তি ছিল না।’

মাহবুবুল হকের মতো শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী একজন শিক্ষককে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষার শৃঙ্খলা কমিটিতে রাখার কারণ জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈন বলেন, ‘তখন কী ঘটনা ঘটেছিল সেটি জানার পর আমি মন্তব্য করতে পারব। তবে বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি আপনার মাধ্যমে জানলাম। তার ব্যাপারে যদি কোনো সিদ্ধান্ত থেকে থাকে তাহলে আমি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’