সেই ‘অলৌকিক’ শিশু যাচ্ছে ঢাকার ছোট্টমণি নিবাসে

ময়মনসিংহের ত্রিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় পড়া মায়ের পেট চিরে রাস্তায় ভূমিষ্ঠ হওয়া সেই নবজাতক কন্যাশিশুটি চিকিৎসার পর এখন সুস্থ। তাকে রাজধানী ঢাকার আজিমপুরে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালনাধীন ছোট্টমণি শিশু নিবাসে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। আজ শুক্রবার সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে শিশুটিকে সেখানে পাঠাবে ময়মনসিংহ জেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ জেলা শিশুকল্যাণ বোর্ডের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক।

তিনি জানান, জেলা প্রশাসন, ত্রিশাল উপজেলা প্রশাসন এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের একাধিক সভায় বাবা-মা হারা শিশুটিকে ছোট্টমণি শিশু নিবাসে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিশুটির চিকিৎসাসহ ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে এটা করা হচ্ছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ওয়ালী উল্লাহ জানান, আজ সকাল ১০টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে শিশুটিকে ছোট্টমণি নিবাসে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, ‘সরকারি নিবাসে থাকলে শিশুটির থাকা, খাওয়া, চিকিৎসা নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হবে না। শিশুটির দাদাসহ স্বজনদের উপস্থিতিতে গত বুধবার শিশুকল্যাণ বোর্ডের একটি বৈঠক হয়। লালন-পালনের লোকবল ও উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় অভিভাবক হিসেবে দাদা মোস্তাফিজুর রহমানের মতামত নিয়েই শিশুটিকে ছোট্টমণি নিবাসে পাঠানো হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শিশুটির দাদা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের নাতিকে নিজেদের কাছেই রেখে লালন-পালন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার আর্থিক ও বাড়ির পরিবেশ ভালো না থাকায় ডিসি স্যার শিশুটিকে সরকারি ছোট্টমণি নিবাসে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে আমি খুশি। কারণ ছোট্টমণি নিবাসে আগামী ৫ থেকে ৬ মাস থাকবে আমার নাতি। এ সময়টায় অভিভাবক হিসেবে যেকোনো সময় তাকে দেখতে যেতে পারব। আমার বাড়ির পরিবেশ ভালো না থাকায় ডিসি স্যার আমার বাড়িতে দুই কক্ষের একটি ঘর করে দেবেন বলে জানিয়েছেন। এরপর নাতনিকে বাড়ি নিয়ে আসব।’

গতকাল রাত পর্যন্ত শিশুটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। সে শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন হাসপাতালটির নবজাতক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই ত্রিশালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ট্রাকচাপা পড়া মায়ের পেট চিরে জন্ম নেয় একটি শিশু। এ সময় মারা যান শিশুটির বাবা জাহাঙ্গীর আলম (৪২), মা রতœা বেগম এবং ওই দম্পতির ছয় বছর বয়সী মেয়ে সানজিদা। দুর্ঘটনার সময় রাস্তায় অলৌকিকভাবে মায়ের পেট চিরে নবজাতকের জন্মের খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। অনেকেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে তার দাদা মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে মোস্তাফিজুর রহমান তার নাতিকে নিজেদের কাছে রেখেই লালন-পালনের আগ্রহ প্রকাশ করেন।