করোনার হানা

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে উত্তোলন বন্ধ

পরীক্ষামূলকভাবে উত্তোলন শুরুর তিন দিন পর ফের বন্ধ হয়ে গেছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা উত্তোলন। খনির ৫২ কর্মকর্তা-কর্মচারীর করোনা শনাক্ত হওয়ার গতকাল শনিবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত সবাই চীন ও বাংলাদেশি।

বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুল ইসলাম সরকার বলেন, খনিতে চীনা ও দেশি শ্রমিক করোনা আক্রান্ত হওয়ায় আজ (শনিবার) সকাল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে কয়লা উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। সাইফুল ইসলাম বলেন, ২৭ জুলাই বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির নতুন কূপে কয়লা উত্তোলন কার্যক্রম শুরু করা হয়। খনিতে ৩০০ চীনা ও ৪০০ বাংলাদেশি শ্রমিক রয়েছেন। এর মধ্যে ২৪ জুলাই ১৪৩ জন দেশি শ্রমিকের নমুনা পরীক্ষা করা হলে ১৬ জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। ২৮ জুলাই ২৯২ জন চীনা ও বাংলাদেশি শ্রমিকের করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৩৪ জন চীনা ও ২ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। আরও ২৫৩ চীনা শ্রমিকের নমুনা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২৭ জুলাই সকাল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে কয়লা উত্তোলন শুরু করা হয়। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই এই খনি পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাওয়ার কথা ছিল। খনি থেকে প্রতিদিন ২ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার মেট্রিক টন কয়লা উত্তোলন করা হবে।

গত ১ মে উত্তোলনকৃত ১৩১০ নম্বর ফেইজ থেকে মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এই খনিতে কয়লা উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। পরের ফেইজটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর পরিত্যক্ত ফেইজের ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রপাতি স্থানান্তর ও নতুন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বসিয়ে ১৩০৬ নম্বর ফেইজ থেকে কয়লা উত্তোলন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। নতুন ফেইজ রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন করে কয়লা উত্তোলনে সময় লাগবে প্রায় সাড়ে তিন মাস। পরে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে কয়লা উত্তোলনের সময়ও নির্ধারণ করে কর্র্তৃপক্ষ। কিন্তু জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় চলমান বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দ্রুত কয়লা উত্তোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ২৭ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টায় খনির নতুন ফেইজ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে কয়লা উত্তোলন শুরু করে কর্র্তৃপক্ষ।