শিখতে নয়, জিততে গিয়েছেন জিম্বাবুয়েতে। ম্যাচ শুরুর আগের দিন গণমাধ্যমের সামনে এমনটিই বলেছিলেন টাইগারদের নতুন অধিনায়ক সোহান। তার ব্যাট হেসেছিলও। পেয়েছেন টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিয়ার সেরা রান। কিন্তু দলের জয় ছিনিয়ে আনতে পারেননি। শরিফুলদের ছন্নছাড়া বোলিং আর সিকান্দার রাজার ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ের পর বাংলাদেশ ম্যাচটা হেরে যায় ১৭ রানে।
তবে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে আজ ফের জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবেন টাইগাররা। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫ টায় হারারেতে ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম ম্যাচের ফল বিবেচনায় দ্বিতীয় ম্যাচের একাদশে আসতে পারে দু একটি পরিবর্তনও।
সোহানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলটি তারুণ্য নির্ভর। নেই পঞ্চপান্ডবদের কেউ। বিশ্বকাপের আগে বিসিবি তাই টাইগারদের পরখ করে নিতে চায়। তাই টি-টোয়েন্টি স্টাইলে ব্যাটারদের সেরাটা উজাড় করে খেলার জন্য বলা হয়েছে। এতে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ হেরে গেলেও কোনো আফসোস থাকবে না বোর্ডের। কারণ, বিসিবি তারুণ্য নির্ভর এই দলটিকে পরখ করে দেখতে চায়।
তারুণ্য নির্ভর দলের প্রসঙ্গ আসতেই মনে হলো ২০০৬ সালের বাংলাদেশ দলটির কথা। বাশার-পাইলট-রফিকদের বাদ দিয়ে শাহরিয়ার নাফিজকে অধিনায়ক করে সেবার দল গড়া হয়েছিল। প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে দলই। সেই তরুণরা অবশ্য তখনকার নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দিয়েছিলেন।
রোডেশিয়ানদের তারা হারিয়েছিলেন ৪৩ রানে। সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি ৩৬ রান আর ১ উইকেট নিয়ে হয়েছিলেন ম্যাচ সেরা। শনিবারও ষোল বছর আগের স্মৃতি রোমন্থন করতে পারতেন টাইগার ভক্তরা। তবে স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছেন বিজয়-শান্তরা।
অতীতের ম্রিয়মান স্মৃতি ভুলে গিয়ে আজ ফের ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে নামবেন লিটনরা। যে লিটনের ব্যাটিং তান্ডবে পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশ সংগ্রহ করেছিল ৬০ রান। আজও সেই ধারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা নিশ্চয়ই করবেন। তবে প্রথম ম্যাচের উদ্বোধনী জুটিতে লিটনের যোগ্য সঙ্গী হতে পারেননি মুনিম। অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে নামলে মুনিম-আনামুলদেরও করতে হবে আগ্রাসী ব্যাটিং। যেমনটা জিম্বাবুয়ে যাওয়ার আগে খালেদ মাহমুদ সুজন বলেছিলেন গণমাধ্যমকর্মীদের। মিডল অর্ডারে সোহান কাল দায়িত্ব নিলেও পাননি যোগ্য কোনো সঙ্গী। তাই ম্যাচটাও হাত থেকে ফসকে গেছে।
শুধু ব্যাটসম্যান নয়। বোলারদের ছন্নছাড়া বোলিংয়ে জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে পেয়েছে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ সংগ্রহ। নাসুম শুরুতে আটোসাটো থাকলেও শেষদিকে গিয়ে তা ধরে রাখতে পারেননি। শরিফুল-তাসকিনও ছিলেন একইরকম খরুচে বোলার। মোস্তাফিজ দুটি উইকেট নিলেও খরচ করেছিলেন অর্ধশত রান। টাইগারদের একমাত্র কিপটে বোলার ছিলেন মোসাদ্দেক। যিনি ২১ রান খরচায় নিয়েছিলেন একটি উইকেট। ম্যাচের পর অধিনায়ক সোহানের কণ্ঠেও ফুটে উঠেছিল শেষ ৬ ওভারের আক্ষেপ। সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে হলে বোলারদেও চিরচেনা রূপেই দেখতে চাইবেন অধিনায়ক।
শনিবার ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান বলেন, উইকেট ব্যাটিং সহায়ক ছিল। ১৫ রান কম দিলে ম্যাচের ফল অন্যরকম হতে পারত। তবে আশা করি আমরা পরের ম্যাচে নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারব।
তবে বাস্তবতা হলো ম্যাচের আগে টিম টাইগাররা নিজেদের তারা গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ খুব একটা পাচ্ছেন না। আজ বিকেলেই ঘুরে দাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে নামতে হতে পারে।