সেতুর অভাবে ২০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের কষ্ট

রাজধানী লাগোয়া সাভারের নামাবাজার এলাকায় বংশী নদী পার হলেই ধামরাই উপজেলা। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ শেষে ধামরাই ও সাভারের মধ্যবর্তী বংশী নদীতে একটি সেতু নির্মাণ হওয়ায় এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ জীবনমানে আমূল পরিবর্তন এসেছে। তবে ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের ফোডনগর এলাকায় ধলেশ^রী নদীর ওপর ছোট্ট একটি সেতুর অভাবে প্রায় ২০ গ্রামের বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। নির্বাচন এলেই জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেন। কিন্তু একের পর এক জনপ্রতিনিধি বদল হলেও কেউই তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি। ফলে স্থানীয় লক্ষাধিক মানুষের শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবাসহ অন্যান্য মৌলিক অধিকারও ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিনেও সেতু নির্মাণ না হওয়ায় লক্ষাধিক মানুষের ভরসা এখন খেয়া নৌকা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ধামরাইয়ের ফোডনগরে ধলেশ্বরী নদীতে জনসাধারণের চলাচলের জন্য কয়েকটি খেয়া নৌকা ব্যবহার করা হচ্ছে। যাতায়াতকারীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায়ের জন্য দক্ষিণ ফোডনগর এলাকায় একটি টিনের ছাপড়া রয়েছে। ঘাটে ইজারা ছাড়াই যাত্রীপ্রতি ১০-২০ টাকা এবং মোটরসাইকেল-প্রতি ২০-৫০ টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। যে কারণে একদিকে ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় পারাপার করতে হচ্ছে, অন্যদিকে দিনে কয়েকবার পারাপার হলে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। যদিও সম্প্রতি স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘাট এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এসময় তিনি খেয়া নৌকায় ৫ টাকার বেশি ভাড়া আদায় না করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং নদীর দুই পাড়ে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ার আশ^াস দেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে কষ্টভোগ করছেন স্থানীয়রা। ধামরাই উপজেলার দক্ষিণ ফোডনগর, ভাটিরচর, মোল্লাপাড়া, জেলেপাড়া, চর উলাইল, খালাসীপাড়া, বড়দাইল, খরারচর ও মামুরাসহ প্রায় ২০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের দুঃখ এই ধলেশ্বরী নদী। বর্ষা এলে অন্যান্য সময়ের চেয়ে স্থানীয়দের ভোগান্তি হাজারগুণ বেড়ে যায়। এসময় হাজারো স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় পার হয়।’

ষাটোর্ধ্ব রমজান আলী বলেন, ‘রাত ১২টার পর যখন ঘাটে মাঝি থাকে না তখন জরুরি কোনো রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে দুর্ভোগের শেষ নেই। গ্রামের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য সাভারসহ ঢাকার বিভিন্ন বাজারে নিয়ে কেনাবেচা করতে পারছে না।’

ফোডনগর পশ্চিমপাড়ার কৃষক মজিদ মিয়া বলেন, ‘ছোট্ট একটি সেতুর জন্য সঠিক সময়ে সবজি বাজারে নিতে পারি না। অনেক সময় জমিতেই নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিদিন কয়েক হাজার লোক ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকা দিয়ে পার হয়। যাতায়াতের একমাত্র পথ হওয়ায় মোটরসাইকেল, মালামাল, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পারাপারে অনেক সমস্যা হয়।’

কুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি লুৎফর রহমান বলেন, ‘সেতুটির ডিজাইনের কাজ চলছে। নতুন বাজেট ঘোষণার পর সেতু নির্মাণের জন্য আবারও ঢাকায় গিয়ে যোগাযোগ করব।’

উপজেলা প্রকৌশলী আজিজুল হক বলেন, ‘করোনার আগে সেতু নির্মাণের জন্য এলজিডির প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। আশা করি অতি দ্রুতই সেতুটি নির্মাণের ব্যবস্থা হবে।’

উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোহাদ্দেছ হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে এমপি মহোদয়ের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছি, কিন্তু অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তবে আশা করছি খুব দ্রুতই সেতুটি পাস হয়ে আসবে এবং আমি চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় এর নির্মাণকাজ শুরু হবে।’