যশোরের চৌগাছা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১শ শয্যায় উন্নীতকরণে ২২ কোটি টাকার কাজে নিম্নমানের ইট, রড ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনিয়ম খতিয়ে দেখতে উপজেলা প্রকৌশলীর নেতৃত্বে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইরুফা সুলতানা জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভবন নির্মাণের কাজে অনিয়ম হচ্ছে বলে উপজেলা চেয়ারম্যানসহ আমার কাছে নানাভাবে অভিযোগ আসে।
অভিযোগের ভিত্তিতে ঠিকাদার শেখ অলিদুর রহমান হিরাকে উপজেলা পরিষদে আসতে বলি। কিন্তু ঠিকাদারের পরিবর্তে উপস্থিত হন ঠিকাদারের ভগ্নিপতি ইমরান হোসেন পাটোয়ারী।
এ সময় তিনি জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাজের দায়িত্বে তিনি রয়েছেন। নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, নিম্নমানের ইট, রড ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের কথা তাকে জানালে তিনি সন্তোষজনক কথা বলতে পারেননি।
সে কারণে উপজেলা প্রকৌশলী রিয়াসাত ইমতিয়াজের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ১শ শয্যায় উন্নীত করতে সরকার ২১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছে।
২০১৯ সালের ১৯ এপ্রিল এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। দুটি ভবনের একটি ৬ তলা বিশিষ্ট ৫০ শয্যার জন্য অপরটি প্রশাসনিক ভবন। ইতিমধ্যে ৪৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার উজ্জ্বল মিয়া জানান।
স্থানীয় একাধিক অভিযোগে জানা যায়, ৬ তলা ভবনের প্রবেশ পথে দুই পাশের দেয়ালে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। ভবনের প্রবেশ পথ ধরে ভেতরে পশ্চিম ও পূর্ব পাশেও একই দৃশ্য চোখে পড়ে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় জানালার পাশে, সিঁড়ির কার্নিশ ও ভেতরের বিভিন্ন দেয়াল নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যান্য তলায়ও একই অবস্থা।
প্রতিটি সিঁড়ির নিচেয় পলেস্তারায় সঠিকভাবে বালি সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি তা সহজে অনুমেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের কর্মচারীরা জানান, কী পরিমাণ বালি বা সিমেন্ট দেওয়া হচ্ছে সেটা তারা বলেনি। এ ছাড়া ৫ তলার ছাদের কাজে রডগুলো সঠিকভাবে দেওয়া হচ্ছে না। কত মিলি ব্যবহার করা হচ্ছে সেটাও সংশ্লিষ্টরা কেউ বলেননি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুন্নাহার বলেন, ভবন নির্মাণে নিম্নমানের ইট ও অন্য সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। বারবার ঠিকাদারকে বলা সত্ত্বেও কোন কথা শোনা হচ্ছে না। কাজের এই অনিয়মের বিষয়ে আমি সিভিল সার্জন স্যারকে অবহিত করেছি।
এ বিষয়ে দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারের ভগ্নিপতি ইমরান হোসেন পাটোয়ারী বলেন, বাজারে নির্মাণ সামগ্রীর দাম অনেক বেশি। ফলে এই কাজে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ২ কোটি টাকা লস হবে।
তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি কাজটি ভালোভাবে সম্পন্ন করতে। তারপরও ইটের বিষয়ে অভিযোগ করা হচ্ছে। ইউএনও ডেকেছিলেন। আমি বলেছি, নিম্নমানের ইট থাকলে সেটি সরিয়ে ফেলা হবে।