উখিয়ার ক্যাম্পে দুর্বৃত্তের গুলিতে রোহিঙ্গা যুবক নিহত

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুর্বৃত্তের গুলিতে নুরুল আমিন (২৬) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক নিহত হয়েছেন। গত সোমবার রাতে কুতুপালংয়ের ৪নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মধুরছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে জেলার টেকনাফের একটি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) একজন কনস্টেবল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া আশ্রয়শিবিরে আই ব্লকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিহত নুরুল আমিন ক্যাম্পটিতে মানবিক কার্যক্রম চালানো বেসরকারি সংস্থা ‘কারিতাসে’ স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতেন বলে জানিয়েছেন উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, ‘বেসরকারি সংস্থায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা নিয়ে রোহিঙ্গাদের একটি গ্রুপের রোষানলে পড়েন নুরুল আমিন। তাকে একদল রোহিঙ্গা দুর্বৃত্ত এসে গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।’

ওসি জানান, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।

টেকনাফে গুলিবিদ্ধ এপিবিএন সদস্য : টেকনাফে রোহিঙ্গাদের একটি আশ্রয়শিবিরে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের এক কনস্টেবল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গতকাল বেলা ১টার দিকে হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া আশ্রয়শিবিরে আই ব্লকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ কনস্টেবলের নাম মোহাম্মদ কাউসার (২৬)। তিনি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এপিবিএন কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানান, গত সোমবার রাতে ৮-১০ জন অজ্ঞাতপরিচয় অস্ত্রধারী রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী হাবিবুল্লাহ নামে এক যুবকের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে ওই যুবক বাধা দেন। তখন তাকে গুলি করে আহত করা হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। একটি সন্ত্রাসী দলের সশস্ত্র অবস্থানের খবর পেয়ে গতকাল দুপুরে আই ব্লকে অভিযানে যায় পুলিশ। এ সময় মুখোশধারী সশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা এপিবিএনের মুখোমুখি হয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়। তখন কনস্টেবল মোহাম্মদ কাউসার গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে উদ্ধার করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।