নগর ভবন ঘেরাও নাসিক পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের

বেতন বৃদ্ধিসহ ছয় দফা দাবিতে নগর ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। গতকাল মঙ্গলবার তারা নগর ভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্সসূচিও পালন করেন। দাবি মানা না হলে মেয়রের গাড়ির নিচে পড়ে আত্মাহুতির হুমকিও দেন তারা। 

বিক্ষোভকারীরা বলেন, ‘শীত আর বৃষ্টি নেই, আমরা সকাল-সকাল উঠেই শহরের রাস্তাঘাট পরিষ্কার করি। নাগরিকদের ঘুম ভাঙার আগেই পুরো শহর আমরা পরিষ্কার করে ফেলি। কিন্তু এত কষ্টের পরেও আমরা বেতন পাই মাত্র দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। সিটি করপোরেশন তো মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করে, আমরাও তো সিটি করপোরেশনের লোক, আমাদের জীবনমান বদলায়নি। নাকি আমরা মানুষ না’।

জানা গেছে, গত কয়েক বছর যাবৎই পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বেতন বৃদ্ধিসহ ৬ দফা দাবি করছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনেরওয়ার্কার্স ইউনিয়ন। লিখিতভাবে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশন, শ্রম দপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা ও শিল্প পুলিশের কাছে। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সংগঠন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কিশোর লাল বলেন, ‘এমন আরও ১২৪০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছেন। যাদের কোনো নিয়োগপত্র নেই। দৈনিক ১২০ থেকে ২১০ টাকা মজুরিতে ৩ ক্যাটাগরিতে বেতন পান। এই বেতন থেকেই কেটে নেওয়া হয় ঘরভাড়াসহ অন্যান্য খরচ। ফলে মাস শেষে অধিকাংশ পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ঘরে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা নিয়ে ফিরতে কষ্ট হয়ে যায়।’

ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি শিমুল দাস বলেন, দাবি আদায় করতে গিয়ে প্রয়োজনে মেয়রের গাড়ির নিচে পড়ে মারা যাব। তারপরেও দাবি আদায় করবই। তিনি জানান তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্রম আইন ২০০৬ মোতাবেক শ্রমিকদের নিয়োগপত্র প্রদান, কর্মরত সব পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের চাকরি স্থায়ীকরণ, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ন্যূনতম দৈনিক হাজিরা ৬৫০ টাকা ও ট্রাক শ্রমিকদের ৭৫০ টাকা করার পাশাপাশি বেতন সমপরিমাণ উৎসবভাতা, প্রতি ওয়ার্ডে ২ জন করে ডোম নিয়োগ, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো শ্রমিক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করলে তার পরিবারকে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ও শেষকৃত্যের জন্য বরাদ্দ ৫ হাজার টাকার পরিবর্তে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা এবং   সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দর অঞ্চলে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের স্থায়ী বসবাসের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ।

বিষয়টি নিয়ে মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কাউন্সিলর দেশ রূপান্তরকে বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নগরকে সুন্দর রাখতে অনেক পরিশ্রম করেন। তাদের যুক্তিযুক্ত দাবিগুলো মেনে নেওয়া উচিত।