নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে জমি কেনায় অতিরিক্ত টাকা ব্যয় দেখিয়ে তা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় প্রতিষ্ঠানটির ট্রাস্টি বোর্ডের দুই সদস্য এম এ কাশেম ও রেহানা রহমানের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে উচ্চ আদালত। দুজনের জামিনের আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের জামিন প্রশ্নে দুই সপ্তাহের রুল দেয়।
আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুজন অন্তর্বর্তীকালীন জামিন চেয়েছিলেন। হাইকোর্ট জামিন না দিয়ে রুল দিয়েছেন। ১৬ আগস্ট রুলের ওপর শুনানির তারিখ ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।’
বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জমি কিনতে অতিরিক্ত ৩০৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয় দেখিয়ে তা আত্মসাতের অভিযোগে ট্রাস্টি বোর্ডের পাঁচ সদস্যসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এতে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আজিম উদ্দিন আহমেদ, বোর্ডের সদস্য এম এ কাশেম, বেনজীর আহমেদ, রেহানা রহমান, মোহাম্মদ শাহজাহান এবং আশালয় হাউজিং অ্যান্ড ডেভেলপারস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিন মো. হিলালীকে আসামি করা হয়।
এজাহার অনুযায়ী, নর্থ সাউথ বিশ^বিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট, বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পাশ কাটিয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের কয়েকজন সদস্যের অনুমোদন/ সম্মতির মাধ্যমে ক্যাম্পাসের উন্নয়নের নামে ৯০৯৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ জমির দাম ৩০৩ কোটি ৮২ লাখ ১৩ হাজার ৪৯৭ টাকা বেশি দেখিয়েছেন। অভিযুক্তরা প্রথমে বিক্রেতার নামে টাকা দিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে বিক্রেতার কাছ থেকে নিজেদের লোকের নামে নগদ চেকের মাধ্যমে টাকা নিয়ে স্থায়ী আমানত হিসাব (এফডিআর) খুলে সেখানে জমা রেখেছেন। এ মামলায় গত ২২ মে হাইকোর্টের এই বেঞ্চে আগাম জামিন নিতে আসেন এম এ কাশেম, বেনজীর আহমেদ, রেহানা রহমান ও মোহাম্মদ শাহজাহান। শুনানি শেষে শাহবাগ থানার পুলিশে সোপর্দ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। আজিম উদ্দিন আহমেদ ও আমিন মো. হিলালী এখনো পলাতক বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।