হেনস্তার শিকার হয়ে কর্মস্থল ছাড়তে বাধ্য হওয়ার দেড় মাস পর ফিরেছেন নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) স্বপন কুমার বিশ্বাস। আগে থেকেই কলেজ গেটে তার অপেক্ষায় ছিলেন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ সময় সবাই ফুল দিয়ে তাকে বরণ করে নেন। গতকাল বুধবার প্রিয় প্রাঙ্গণে ফিরে স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘সমাজে ষড়যন্ত্রকারীর সংখ্যা হাতেগোনা, ভালো মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। সমাজে ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠিত হবেই।’
কলেজে প্রবেশের সময় অধ্যক্ষ স্বপন কুমার সাংবাদিকদের কাছে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘কয়েকজন ষড়যন্ত্রকারী যে ঘটনা ঘটিয়েছে তা ভুলে যেতে চাই। এ ঘটনার পর জেলা ও পুলিশ প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, সান্ত¡না দিয়েছেন। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। সবাই যেভাবে আমাকে সম্মান দেখিয়েছেন আমি অভিভূত।’
অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসের কলেজে ফেরা উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য বিএম কবিরুল হক মুক্তি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট অচিন চক্রবর্ত্তী, মুক্তিযোদ্ধা এসএ মতিন, মুক্তিযোদ্ধা সাইফুর রহমান হিলু, বিছালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হেমায়েত হোসেন ফারুক, সাবেক চেয়ারম্যান আনিচুর রহমান, নড়াইল সদর থানার ওসি মাহমুদুর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
কলেজের এক ছাত্রের ফেইসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে কলেজ ক্যাম্পাসে গত ১৮ জুন এক সহিংস ঘটনার পর কলেজের অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে পুলিশের সামনে জুতার মালা পরিয়ে কলেজ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর ৩৬ দিন বন্ধ থাকার পর গত ২৪ জুলাই কলেজ খুললেও সেদিন অধ্যক্ষ যাননি।
অধ্যক্ষ হেনস্তা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সদর থানার ওসি মো. মাহমুদুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা সবাই জেলে। এর মধ্যে মির্জাপুর কলেজের ছাত্র রয়েছে চারজন। তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ভিডিও ফুটেজে তাদের কর্মকাণ্ড দেখে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে যে পোস্ট ঘিরে এত ঘটনা সেই পোস্টকারী কলেজছাত্র রাহুলও হাজতে।