জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) হলের অতিথি কক্ষে ডেকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত এক সাংবাদিককে মারধর করেছেন ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী। গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় জড়িত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ৮ কর্মীকে সংগঠনে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।
মারধরের শিকার ওই সাংবাদিক হলেন আল আমিন হোসাইন রুবেল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (৪৯তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী এবং একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত।
অভিযুক্ত ছাত্রলীগের কর্মীরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের আসাদ হক ও আরিফ জামান সেজান, অর্থনীতি বিভাগের জিয়াদ মির্জা, দর্শন বিভাগের মীর হাসিবুল হাসান রিশাদ, নৃবিজ্ঞান বিভাগের রাইহান বিন হাবিব, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের মুনতাসির আহমেদ তাহরীম, আইন ও বিচার বিভাগের মাসুম বিল্লাহ (সবাই ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী) এবং রসায়ন বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের জাহিদ হাসান। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
গত সোমবার ‘ভর্তিচ্ছুদের পাশে জাবি ছাত্রলীগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন করেন রুবেল। ওই প্রতিবেদনের জন্য শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য নেন তিনি। বক্তব্য নেওয়ার সময় রুবেলের করা একটি প্রশ্নে ক্ষুব্ধ হন ছাত্রলীগ সম্পাদকের সঙ্গে থাকা কর্মীরা। লিটনের বক্তব্য নেওয়া শেষে ছাত্রলীগের অন্য কর্মীরা রুবেলকে সেখানে নানাভাবে শাসান বলে জানা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ব্যাপারে হল প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বলে বিবেচিত হবে।’
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল্লাহেল কাফি বলেন, ‘এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাতে (বুধবার) হলে সভা ডাকা হয়েছে। সেখানে আলোচনা করে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করে দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের অতিথি কক্ষে রুবেলকে ডেকে নিয়ে যান ছাত্রলীগের ওই কর্মীরা। এরপর তাকে কক্ষের ওপরের অংশের গ্রিল ধরে ঝুলে থাকতে ও টেবিলের নিচে মাথা ঢুকিয়ে দিয়ে উপুড় হয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়। এ ছাড়া গালাগালি করা হয়। একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। মোবাইল ফোনের লক খুলে দিতে অস্বীকৃতি জানালে রুবেলকে মারধর করা হয়।
খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিক এবং ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সেখানে যান। তারা রুবেল ও অভিযুক্তদের কথা শোনেন। এ সময় অতিথি কক্ষে ডেকে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও মারধর করেননি বলে দাবি করেন আসাদ হক ও আরিফ জামান সেজান। তারা বলেন, অতিথি কক্ষের কথাবার্তা রেকর্ড হচ্ছে কি না, তা জানার জন্য তারা রুবেলের মোবাইল ফোন চেক করতে চেয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটন বলেন, ‘যারা ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তারা আর ছাত্রলীগের কেউ না। সাংগঠনিক কাজকর্ম থেকে তাদের অবাঞ্ছিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’