ক্রয়মূল্যে হিসাবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা

ব্যাংক কোম্পানি কর্র্তৃক অন্য কোনো কোম্পানির শেয়ার ধারণের হিসাবায়নে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্যকেই ‘বাজারমূল্য’ হিসেবে বিবেচনা করতে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের পাঠানো হয়।

এর আগে গত মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে মতামত দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর এ বিষয়ে মতামত চেয়ে গত ১৮ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়। চিঠিতে ব্যাংকের পুঁজিবাজার বিনিয়োগসীমা হিসাবায়নের ক্ষেত্রে বাজারমূল্যের পরিবর্তে ক্রয়মূল্যকে বিবেচনায় নেওয়া যায় কি না সে বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ক্রয়মূল্যকেই বাজারমূল্য হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে বলে মতামত দেওয়া হয়। আগে বাজারমূল্য ও ক্রয়মূল্যের মধ্যে যেটি বেশি তাকেই হিসাবায়নে নিতে হতো।

ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ (২০১৮ পর্যন্ত সংশোধিত) এর ধারা ২৬ক এর উপধারা (১) মোতাবেক কোনো ব্যাংক সামষ্টিক ও এককভাবে অন্য কোনো কোম্পানির শেয়ার ধারণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংস্থাটির নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংক কোম্পানি কর্র্তৃক এককভাবে ও সামষ্টিক উভয় ভিত্তিতে শেয়ার ধারণের ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট শেয়ার, করপোরেট বন্ড, ডিবেঞ্চার, মিউচুয়াল ফান্ড ও অন্যান্য পুঁজিবাজার নিদর্শনপত্রের বাজারমূল্য হিসাবায়নের ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্যকে বিবেচনায় নিতে বলা হয়।

গতকাল এ সার্কুলার জারির বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, পুঁজিবাজার উন্নয়নের জন্য এসইসি ভালো কাজ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যে ধরনের নীতি সহায়তা দেওয়া দরকার আমরা তা দেব।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের পুঁজিবাজার বিনিয়োগসীমা নির্ধারণের বিষয়ে গত ১০-১২ বছর ধরে একটি বিতর্ক ছিল। তা এবার সমাধান হয়েছে। পুঁজিবাজারে দুটি দিক আছে। একটি ইক্যুয়িটি ও অন্যটি বন্ড। বন্ড মার্কেট যদি উন্নত হয় তাহলে সরকারি বন্ড সেকেন্ডারি মার্কেটে কেনাবেচা করা যাবে। শেয়ারের সেকেন্ডারি মার্কেট খুবই প্রাণবন্ত। এসইসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে বন্ড মার্কেটকে প্রাণবন্ত করার বিষয়ে। ভালো বন্ড নিয়ে আসতে হবে। বন্ড যদি অ্যাসেট ব্যাকড হয়, গ্যারান্টেড হয় তাহলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে।

বর্তমানে কোনো ব্যাংক এককভাবে তার মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ অন্য কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারে। সাবসিডিয়ারিসহ মূলধনের ৫০ শতাংশ বিনিয়োগ করতে পারে।