বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের যাত্রীসেবা কাক্সিক্ষত মানের নয় বলে স্বীকার করেছেন বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. যাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এ ক্ষেত্রে আরও উন্নতি করার সুযোগ আছে। আমাদের উচিত বিমানের যাত্রীদের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করা। বিমানকে একটি লাভজনক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’
দায়িত্ব নেওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বলাকা ভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন বিমান এমডি। বিমানের যাত্রীসেবা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা আছে, যা তিনি স্বীকার করেছেন এই সংবাদ সম্মেলনে। এ সময় বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
যাহিদ হোসেন বলেন, ‘বিমানের ঢাকা-টরন্টো ফ্লাইট আসা-যাওয়ায় জেট ফুয়েল লাগে ১৯৫ টন। যার বর্তমান বাজারমূল্য ১ কোটি ৬৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এই রুটে বিমানের ফ্লাইট ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। যাত্রীর সংখ্যাও বাড়ছে। ধীরে ধীরে ভালো অবস্থায় যাওয়া সম্ভব।’ তিনি বলেন, ‘কভিডের তীব্র প্রকোপের কারণে সারা পৃথিবীর বিমান চলাচল শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। অনেক এয়ারলাইনস বন্ধ হয়ে যায়। আমরা সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠেছি। আমরা ২০২১-২২-এ ২২ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছি। যেহেতু আমাদের প্রথম উদ্দেশ্য হলো বিমানকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা, তাই আমরা সব সিদ্ধান্ত বাণিজ্যিকভাবেই নেব। তবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রের অঙ্গীকারও রক্ষা করা হবে।’
বিমান এমডি বলেন, বর্তমানে বিমানের বার্ষিক লেনদেন ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। বিমানকে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে চান তারা যার বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ হবে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটা করতে হলে ব্যবসাকে বড় করতে হবে, সিদ্ধান্তগুলো ব্যবসায়িক চিন্তাভাবনা করে নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রায় ৮০ লাখ প্রবাসী রয়েছে। তারা বিমানে চলাচল করতে চায়। আমরা আমাদের উড়োজাহাজগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার করার চেষ্টা করা। এটাই আমার লক্ষ্য।’
সম্প্রতি বিমান দুর্ঘটনায় সুইপারের ওপর দোষ চাপিয়ে অন্যদের রক্ষা করা হয়েছে এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে যাহিদ হোসেন বলেন, ‘না, স্ইুপারকে বলির পাঁঠা করা হয়নি। এ ঘটনায় সাত-আটজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা কেউ সুইপার নন। যার যে কাজ করার কথা ছিল সে সেই কাজটি করেনি। সন্দেহ নেই, এটা আমাদের সুপারভাইজিং ফেইলিওর।’
চীনে ফ্লাইট পরিচালনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চীন কর্তৃপক্ষ আমাদের যতটুকু ফ্লাইট অপারেশনের অনুমতি দেয় আমরা ততটুকুই করব। তারা অফিশিয়ালি বিষয়টি আমাদের জানায়নি। ঢাকায় চীনা দূতাবাসের একটা পোস্ট থেকে বিষয়টি সম্পর্কে আমরা জানতে পারছি।’ বিমানে পাইলট নিয়োগের দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে যাহিদ হোসেন বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক বিভিন্ন বিষয়ে অনুসন্ধান করছে। ফৌজদারি তদন্তের ক্ষেত্রে যেকোনো সংস্থা স্বাধীন। তদন্তে আমরা সবসময় সহযোগিতা করব। ফৌজদারি তদন্তে যে ফল আসে সে অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব।’
সরকারি কর্মকর্তাদের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ব্যবহার না করার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিমান এমডি বলেন, ‘বিমান ব্যবহারের যে নির্দেশনা দেওয়া আছে সেটা অব্যাহত রয়েছে। মুশকিল হলো তারা যখন কানেকটিং রুটে যায় তখন তারা কানেকটিং পায় না বলে ওখানে বিমানে চড়ে না।’ অভ্যন্তরীণ রুটেও তারা বিমানে যাতায়াত করে না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা তো ওনাদের বাধ্য করতে পারি না।’ নিউ ইয়র্ক ফ্লাইটের বিষয়ে বলেন ‘এটি নিয়ে সিভিল এভিয়েশন কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সুখবর পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অতিরিক্ত সচিব যাহিদ হোসেন ১৩ জুলাই বিমানের এমডি ও সিইওর দায়িত্ব পান। এর আগে তিনি বিমানের পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে বিমানের প্রকিউরমেন্ট ও লজিস্টিক সাপোর্ট বিভাগের পরিচালক এবং বিপণন ও বিক্রয় বিভাগের পরিচালক ছিলেন।