প্রিয় ফরম্যাটে স্বস্তির খোঁজে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ড্রেসিংরুমের অবস্থাটা এখন কেমন! দল হেরেছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। যা হারলেও ক্ষতি নেই বলে সিরিজের আগে জানা ছিল সব ক্রিকেটারের। অথচ হারের পর তারাই জানছেন এটা স্বার্থপর ক্রিকেটের ফল। আর যিনি অভয় দিয়েছিলেন সেই খালেদ মাহমুদ সুজনই করছেন দোষারোপ। সব মিলিয়ে ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগেই দল কোণঠাসা নিজেদের আলোচনাতেই। এই অবস্থায় স্বস্তি যে ওয়ানডে এসেছে। একমাত্র এ ফরম্যাটেই তো নির্ভার হয়ে খেলতে পারে বাংলাদেশ। তাই সিরিজ হার-দোষারোপ সব হতাশা কাটনোর উপলক্ষও এসেছে। প্রিয় ফরম্যাটে সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্বস্তি পেতে চায় বাংলাদেশ।

টি-টোয়েন্টির কারণেই জিম্বাবুয়েতে ওয়ানডে সিরিজ এবার গুরুত্ব রাখছে। উইন্ডিজ সিরিজের মতো এটাও ওয়ানডে সুপার লিগের বাইরে। তবুও হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ কই। ছোট ফরম্যাটের মতো এতে হারলেও তো টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে দোষারোপের ভয় আছে। সেই ভয় দূর করার পথ তৈরি করেছেন তামিম ইকবালরা। ওয়ানডেতে পূর্ণ শক্তি নিয়েই নামছে বাংলাদেশ। হজের ছুটি শেষে ফিরেছেন মুশফিকুর রহিম। অধিনায়ক তামিম আছেন, মাহমুদউল্লাহও আছেন সবশেষ উইন্ডিজে ব্যাটে রান পাওয়ার ছন্দ নিয়ে। বল হাতে এই ফরম্যাটে দারুণ কার্যকর মেহেদী হাসান মিরাজও আছেন। বিপরীতে জিম্বাবুয়ে তরুণদের নিয়ে রেজিস চাকাভার নেতৃত্বে নতুন চেহারার দল দিয়েছে। নিয়মিত অধিনায়ক শন উইলিয়ামস এই সিরিজে পেয়েছেন ছুটি। অভিজ্ঞতা ও স্বচ্ছন্দের বিচারেই স্বাগতিকদের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে থাকছে বাংলাদেশ।

এই ফরম্যাটে সবশেষ ৮ সিরিজে মাত্র একটিতে হেরেছেন তামিমরা। এই ওপেনারের নেতৃত্বে শুরুটা হয়েছিল ২০২১ এ উইন্ডিজ সিরিজ দিয়ে। পরের সিরিজে নিউজিল্যান্ডে সিরিজ হারের পর টানা ৫ সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। ম্যাচের হিসাবে মোট ২০ ম্যাচে ১৭টিতেই জয়। গত বছর জিম্বাবুয়ে সফরে তাদের ৩-০ তে হারানোর স্মৃতিও আছে। পাশাপাশি ২০১৪ থেকে মোট ১৯ ম্যাচে জয় ও ওয়ানডেতে একমাত্র জিম্বাবুয়ের সঙ্গেই জয়ের হাফসেঞ্চুরিও আছে বাংলাদেশের। দলটির বিপক্ষে মোট ৭৮ ম্যাচ খেলে ৫০ জয়ের সাফল্য। তবুও এবার চ্যালেঞ্জটা একটু বেশি নিজেদের কারণে। বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমেই তো আগুন লাগা অবস্থা সুজনের কথায়।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শেষ টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়ের জয়ের নায়ক রায়ান বার্লের টিপ্পনী। বাঁহাতি স্পিনারদের বিপক্ষে ব্যাট করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। সাকিব আল হাসানের বিপক্ষে ২০১৯ সালে এক ওভারে নিয়েছিলেন ৩০ রান। মঙ্গলবার নাসুম আহমেদের বিপক্ষে নিজের সেরা ছন্দ খুঁজেও পান তিনি। ওভারে ৫ ছক্কা ও ১ চারে ৩৪ রান নেওয়া বার্ল গত ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ বোলারদের নিয়ে মজা করেন, ‘সাকিব এই সিরিজে আসল না কেন। সেবার (২০১৯) এত রান নিয়েছিলাম বলেই হয়তো আসেনি। সামনের বার নাসুম হয়তো আসবে না।’ টিম ডিরেক্টরের সমালোচনার পর বিপক্ষ ব্যাটারের এমন টিপ্পনী বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের হতাশা বাড়ার কারণ হবে। একমাত্র জয় দিয়েই এই টিপ্পনীর জবাব দিতে পারে বাংলাদেশ।

জয়ের জন্য সেরা একাদশ প্রায় তৈরি। শুধু সাকিবের অনুপস্থিতি। উইকেটরক্ষক হিসেবে নুরুল হাসান সোহান না থাকায় এনামুল হক বিজয়ের সুযোগ আসতে পারে এবার। ওপেনিংয়ে তামিম-লিটনের পরই তার জায়গা হবে। চারে সাকিবের অনুপস্থিতিতে আবারও সুযোগ পেতে পারেন নাজমুল হাসান শান্ত। এরপর মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ-মিরাজ। দ্রুত রান তোলার হিসেবে মোসাদ্দেক-আফিফের মধ্যে একজন সুযোগ পাবেন। এছাড়া মোস্তাফিজ ও তাসকিনের সঙ্গে উইন্ডিজে গত ম্যাচে ৫ উইকেট নেওয়া তাইজুল ইসলাম টিকে যেতে পারেন। এক পেসার বেশি নিলে একাদশে থাকবেন শরিফুল বা হাসান মাহমুদ।

কাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে টানা ৫ সিরিজ জয়ের ধারাবাহিকতা রাখার কথাই জানান অধিনায়ক তামিম, ‘এখানে উইকেট ভালো। শুরুতে ১ ঘণ্টা একটু চ্যালেঞ্জিং থাকে। এক সাইডের বাউন্ডারি ছোট থাকবে। এটা দুই দলের জন্যই চ্যালেঞ্জ। ধারাবাহিকতা রাখাই চিন্তা থাকবে। দুই দলের মধ্যে আমরা হয়তো ভালো। কিন্তু ক্রিকেটে নির্দিষ্ট দিনে কে ভালো করে সেটা মূল বিষয়। টি-টোয়েন্টি সিরিজে দেখেছেন ওরা আমাদের হারিয়েছে। আমাদের চেষ্টা থাকবে যেন ম্যাচে কঠিন সময় এলে সেগুলো যেন জিততে পারি।’

ওয়ানডে ক্রিকেটের আকর্ষণ নিয়ে পুরো বিশ্বেই কথা উঠছে। অথচ তামিমের কাছে ৫০ ওভারের খেলাই ‘গুরুত্বপূর্ণ ও ফ্যান্টাস্টিক’। তাছাড়া এই ফরম্যাটের বিশ্বকাপকে টি-টোয়েন্টির চেয়েও বড় ইভেন্ট বললেন তিনি। নিজের প্রিয় ফরম্যাটে জয় দিয়ে দলের গুমোট পরিবেশ দূর করাই লক্ষ্য।