গত শুক্রবারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিসহ গত আট মাসে ডিজেলের দাম ৭৫ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় পরিবহন খরচ প্রায় ™দ্বিগুণ হয়েছে। এ কারণে অন্য সব কোম্পানির মতো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির মালিকদের কপালেও চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে খরচ যতটুকু বাড়ছে, তা পণ্যমূল্য বাড়িয়ে সমন্ব^য় করা যাবে কি-না, তা নিশ্চিত নন উদ্যোক্তারা।
এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর যে ইঙ্গিত রয়েছে, তা শেষ পর্যন্ত কার্যকর হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে আশঙ্কা করছেন তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা। তারা জানান, শিল্পে জ্বালানি তেলের সরাসরি ব্যবহার কম। কারখানা ও অফিস চলে বিদ্যুৎ ও গ্যাসে। কিন্তু কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি তেলনির্ভর। এর ফলে পণ্যমূল্য বাড়বে। এতে পণ্য বিক্রি কমবে এবং মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
স্বল্প মূলধনি কোম্পানির বাজারসহ (এসএমই বোর্ড) বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ৩৬৩টি। এর মধ্যে উৎপাদন ও সেবা খাত সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সংখ্যা ২৫৩টি। এর মধ্যে সরাসরি উৎপাদনে রয়েছে ২২৬টি। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বীমা কোম্পানি ১১০টি। লোডশেডিংয়ের কারণে অফিস কার্যক্রম নিবিঘ্ন রাখতে জেনারেটর চালাতে এসব কোম্পানির ডিজেল খরচ বাড়ছে।
জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধির প্রভাব বিষয়ে এমারেল্ড অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফজাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, কারখানা চলে বিদ্যুৎ ও গ্যাসে। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় এবং লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতদিন ধরে গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় বেসরকারি এলপিজি দিয়ে উৎপাদন সচল রাখা হচ্ছে। এতে করে শুধুমাত্র এলপিজির কারণে জ্বালানি ব্যয় প্রায় চারগুণ বেড়ে গেছে। এখন নতুন করে জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধির কারণে কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য পরিবহনে খরচ বাড়বে। আগে যেখানে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকায় ট্রাক ভাড়া পাওয়া যেত, এখন ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা গুনতে হবে। একদিনের পরিবহন খরচ লাখ টাকার বেশি বেড়ে যাবে। এর নেতিবাচক প্রভাব মুনাফায় পড়বে।
একই কথা বললেন সিমেন্টে কোম্পানির একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বলেন, গত নভেম্বরে ডিজেলের দাম ছিল ৬৫ টাকা। আট মাস পর সেই ডিজেলের দাম ১১৪ টাকা। অর্থাৎ ৭৫ শতাংশের ওপর বেড়েছে। ডিজেলের দামবৃদ্ধির কারণে কাঁচামাল ও উৎপাদিত সিমেন্ট পরিবহনে বস্তাপ্রতি সিমেন্ট ক্রেতা পর্যন্ত পৌঁছাতে খরচ বাড়বে ৩০ থেকে ৫০ টাকা। বাড়তি এ টাকা ক্রেতাকেই গুনতে হবে। অর্থাৎ সিমেন্টের মূল্য বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই।
জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধির প্রভাব পুঁজিবাজারে কেমন হতে পারে- জানতে চাইলে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আল-আমিন বলেন, পাম অয়েল, মেঘনা অয়েলের মতো কয়েকটি কোম্পানির মুনাফা হয়তো আরও কিছুটা বাড়বে। কিন্তু অন্য অধিকাংশ কোম্পানির খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা আছে। তিনি আরও বলেন, মূলস্ফীতিসহ নানা কারণে মানুষ নিত্যপণ্যের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। এ অবস্থায় সঞ্চয়ের হার ও বিনিয়োগ কমবে। এরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা বাজারে আছে।