বঙ্গবন্ধু রেল সেতু নির্মাণ প্রকল্পের মালামাল নিয়ে একটি বিদেশি জাহাজ মোংলাবন্দরে ভিড়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকাবাহী এমভি উহিয়ান হোপ জাহাজটি এসব পণ্য নিয়ে বন্দরে ভেড়ে। এ সময় বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ জাহাজটির সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মোংলাবন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফখরউদ্দিন জানান, সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর ওপর যমুনা সেতুসংলগ্ন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুর কাঠামো মেশিনারি পণ্য নিয়ে জাহাজটি শনিবার বিকেলে মোংলাবন্দরে এসে পৌঁছেছে। এসব আমদানি পণ্য নিয়ে বিদেশি জাহাজ এমভি উহিয়ান হোপ গত ২৫ জুলাই ভিয়েতনামের হাইফং বন্দর ছেড়ে আসে। এই চালানে ২৬৭ প্যাকেজের ২৩৫০ মেট্রিক টন মেশিনারি পণ্য এসেছে। এসব পণ্য ভিয়েতনামের আইএইচআই ইনফ্রাস্ট্রাকচার এশিয়া লিমিটেড কোম্পানি উৎপাদন করেছে।
এমভি উহিয়ান হোপ জাহাজের স্থানীয় শিপিং এজেন্টে হক অ্যান্ড সন্সর খুলনার ব্যবস্থাপক মো. শওকত আলী বলেন, ভিয়েতনাম থেকে আসা এসব পণ্য ৯ আগস্টের মধ্যে খালাস করা হবে। এরপর সড়কপথে পদ্মা সেতু হয়ে এই মালামাল সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পাড়ে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে সেতুস্থলে পৌঁছাবে।
মোংলাবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা বলেন, দেশের চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু, যার বাস্তবায়ন এখন দৃশ্যমান। এই সেতুর মেশিনারি পণ্যের চালান মোংলাবন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া বন্দরের ব্যাপক সক্ষমতার প্রমাণ দেয়। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় মোংলাবন্দরের সক্ষমতাকে অধিকতর কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের সব বন্দরের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দূরত্ব অনেকাংশে কম হওয়ায় মোংলাবন্দর ব্যবহারে আমদানি ও রপ্তানিকারকদের আগ্রহ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এ ছাড়া দেশের সর্ববৃহৎ মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অন্যান্য মেগা প্রকল্পের মালামাল এ বন্দর দিয়ে আমদানি, খালাস ও পরিবহন হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মোংলাবন্দরের সুনাম বৃদ্ধিসহ কর্মচাঞ্চল্য ও আয় বাড়ছে। বন্দর চেয়ারম্যান আরও বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে এই বন্দর আন্তর্জাতিকভাবে অনন্য পর্যায়ে পৌঁছাবে। সেই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের বিকল্প বন্দর হিসেবে সরাসরি অর্থনীতিতে আরও ব্যাপক আকারে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।