ঝিনাইদহে স্মরণসভা

অমিত হাবিবের মৃত্যুতে জাতির অপূরণীয় ক্ষতি

দেশ রূপান্তরের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক প্রয়াত অমিত হাবিব স্মরণে আলোচনা সভা ও তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে ঝিনাইদহের মহেশপুরের জিন্নাহনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আয়োজনে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। একইদিন বিকেলে মহেশপুরের কাজীরবেড় গ্রামে দেশবরেণ্য এই সাংবাদিকের নিজ বাড়িতে দোয়া মাহফিল, স্মরণসভা ও কবর জিয়ারত করা হয়। অমিত হাবিব জিন্নানগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।

জিন্নাহনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অমিত হাবিবের স্কুলের সহপাঠী ও স্থানীয় সরকার

প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) যশোর অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম নূরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন মালয়েশিয়ার লিংকন ইউনিভার্সিটির শিক্ষক সাজ্জাতুল ইসলাম নয়ন, বীর মুক্তিযোদ্ধা এমদাদুল হক, কেবিএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান এবং অমিত হাবিবের ভাই ফয়জুল হাবিব রাঙ্গা।

জিন্নাহনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উম্মে হাবিবার সভাপতিত্বে স্মরণসভাটি পরিচালনা করেন একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনিচুজ্জামান। স্মরণসভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরাসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

স্মরণসভায় আলোচকরা বলেন, অমিত হাবিবের মতো একজন দেশবরেণ্য সাংবাদিককে হারিয়ে মহেশপুরবাসী শোকাহত। তাকে হারিয়ে ঝিনাইদহবাসীসহ দেশ ও জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। যা কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব না। এই খ্যাতিমান সাংবাদিকের আরও কিছুদিন বেঁচে থাকার প্রয়োজন ছিল। আলোচকরা অমিত হাবিবের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

অন্যদিকে অমিত হাবিবের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় গতকাল বাদ আসর কাজীরবেড় গ্রামে তার নিজ বাড়িতে দোয়া মাহফিল, স্মরণসভা ও কবর জিয়ারত করা হয়। এতে প্রয়াত এই সাংবাদিকের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সেখানে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় অমিত হাবিবের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন মহেশপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সুলতানুজ্জামান লিটন, বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার ইমদাদুল হক, এলজিইডির প্রকৌশলী এস এম নুরুল ইসলাম, শ্যামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রবিউল হোসেন প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, দেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসে অমিত হাবিবের নাম সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি দেশের সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে কাজ করে গেছেন। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তার অবস্থান দেশ ও জাতি আজীবন মনে রাখবে। এ সময় আলোচকরা অমিত হাবিবের বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

তিন যুগ ধরে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে নতুন ধরনের সাংবাদিকতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই সাংবাদিকের মৃত্যুর পরপরই শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

গত ২৮ জুলাই রাত ১১টায় রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অমিত হাবিবের মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর। এর আগে গত ২১ জুলাই দেশ রূপান্তর অফিসে কর্মরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে অমিত হাবিবকে প্রথমে স্কয়ার হাসপাতালে, পরে বিআরবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে তাকে ২৫ জুলাই রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে নেওয়া হয়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, অমিত হাবিবের হেমোরেজিক স্ট্রোক হয়েছিল। তার রক্তনালি ছিঁড়ে গিয়ে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়। এতে আক্রান্ত স্থানের টিস্যুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে তার বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।

চতুর্থ জানাজা শেষে ২৯ জুলাই রাতে জন্মস্থল ঝিনাইদহের মহেশপুরের কাজীরবেড় গ্রামে চিরনিদ্রায় শায়িত হন সাংবাদিক গড়ার কারিগর, অমিত হাবিব।