জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অফুরান প্রেরণার উৎস তারই সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জন্মদিন আজ সোমবার। ১৯৩০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন এই মহীয়সী নারী। তিনি প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার মা। তার বাবা শেখ জহুরুল হক ও মা হোসনে আরা বেগম। বেঁচে থাকলে তার বয়স হতো ৯২ বছর।
দিবসটি জাতীয়ভাবেও পালিত হবে। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জন্মদিন ৮ আগস্ট ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তখন থেকে প্রতি বছর দিনটি জাতীয় দিবস হিসেবে জাতীয়ভাবে পালিত হয়ে আসছে। বঙ্গমাতার এবারের জন্মবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য ‘মহীয়সী বঙ্গমাতার চেতনা : অদম্য বাংলাদেশের প্রেরণা’।
জাতির পিতার আমৃত্যু সঙ্গী, বাংলার মহীয়সী নারী বঙ্গমাতার ডাকনাম ছিল রেণু। বঙ্গবন্ধু তাকে এ নামেই ডাকতেন। এক ভাই, দুই বোনের মধ্যে রেণু ছিলেন ছোট। তিনি পাঁচ বছর বয়সেই পিতা-মাতা হারান। আট বছর বয়সে চাচাতো ভাই শেখ মুজিবের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর থেকেই তিনি ছিলেন জাতির পিতার আমরণ সঙ্গী। তিনি বঙ্গবন্ধুর সমগ্র রাজনৈতিক জীবন ছায়ার মতো অনুসরণ করে তার প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অফুরান প্রেরণার উৎস হয়ে ছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগানো রেণু ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সপরিবারে স্বাধীনতাবিরোধী দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে খুনিচক্রের বুলেটের আঘাতে নির্মমভাবে শহীদ হন।
বঙ্গবন্ধু যখন বারবার পাকিস্তানি শাসকদের হাতে বন্দি জীবনযাপন করছিলেন, তখন আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ফজিলাতুন নেছা মুজিবের কাছে ছুটে আসতেন বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনা জানতে। তিনি তাদের বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন দিকনির্দেশনা পৌঁছে দিতেন; বিশেষ করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় যখন বঙ্গবন্ধুর প্যারোলে মুক্তি নিয়ে কিছু কুচক্রী স্বাধীনতা সংগ্রামকে বিপন্ন করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছিল, তখন প্যারোলে মুক্তির বিপক্ষে বেগম মুজিবের দৃঢ়চেতা অবস্থান বাংলার মুক্তি সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করেছিল, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, বঙ্গবন্ধুর সমগ্র রাজনৈতিক জীবনে ছায়ার মতো অনুসরণ করে তার প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অফুরান প্রেরণার উৎস হয়েছিলেন বেগম মুজিব। বাঙালি জাতির মুক্তি সনদ ছয় দফা ঘোষণার পর বঙ্গবন্ধু যখন বারবার পাকিস্তানি শাসকদের হাতে বন্দি ছিলেন, তখন দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা বঙ্গমাতার কাছে আসতেন, তিনি তাদের জাতির পিতার বিভিন্ন দিকনির্দেশনা বুঝিয়ে দিতেন এবং লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রেরণা জোগাতেন।
বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকী স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে আওয়ামী লীগ যথাযথ মর্যাদায় পালন করবে।
দলটির দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সোমবার সকাল ৮টায় বনানী কবরস্থানে শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে দলটি। পরে কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হবে। বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘বাঙালি মহীয়সী নারী শহীদ শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব’ শীর্ষক আলোচনা সভা এবং প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বীজ বিতরণ করবে দলটির ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটি। একই সময়ে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে আলোচনা সভা করবে দলটির বন ও পরিবেশ উপকমিটি। বেলা ১১টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আলোচনা সভা করবে যুবলীগ, ৩২ নম্বর সড়কের বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা করবে স্বেচ্ছাসেবক লীগ। পৃথক কর্মসূচি পালন করবে মৎস্যজীবী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ।
বঙ্গমাতার ৯২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ নারীকে ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব পদক-২০২২ প্রদান করবে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সোমবার সকাল ১০টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন।