বাসে পোশাকশ্রমিক ধর্ষণ

বিবস্ত্র অবস্থায়ই ফেলে দিতে চেয়েছিল ধর্ষকরা

গাজীপুরের শ্রীপুরে তাকওয়া পরিবহনের চলন্ত বাসে পোশাকশ্রমিক এক নারীকে ধর্ষণের পর বিবস্ত্র অবস্থায়ই রাস্তায় ফেলে দিতে চেয়েছিল ধর্ষকরা। কিন্তু রাস্তায় শত শত মানুষের সামনে বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ার লজ্জার ভয়ে পাঁচ ধর্ষকের হাতে-পায়ে ধরে কাপড় চেয়ে নেন ওই নারী। গতকাল রবিবার সাংবাদিকদের কাছে স্ত্রীর বরাতে এমনই লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন ধর্ষণের শিকার হওয়া ওই নারীর স্বামী।

এদিকে ধর্ষণের শিকার ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা গতকাল গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষায় তাকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।

ধর্ষণের শিকার ওই নারীকে উদ্ধার এবং গ্রেপ্তার পাঁচজনের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে গতকাল বিকেলে নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন জেলার পুলিশ সুপার এস এম সফিউল্লাহ। সেখানে ধর্ষণের শিকার নারীর স্বামী বলেন, ‘আমরা গাজীপুর বাইপাস থেকে তাকওয়া পরিবহনের একটি মিনিবাসে উঠে পড়ি। পরে বাসটি বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রী তোলে। এ সময় আবার বিভিন্ন স্থানে যাত্রী নামেও। মাওনা আসার পথে রাজেন্দ্রপুরে সর্বশেষ যাত্রী নেমে পড়ে। এ সময় বাসে শুধু আমি ও আমার স্ত্রী ছিলাম। বাসের কয়েকজন স্টাফ ছিল। বাসটি গড়গড়িয়া মাসটারবাড়ি এলাকা অতিক্রম করতেই আমাকে তারা বেদম মারধর করতে থাকে। এ সময় আমাদের কাছে থাকা টাকাপয়সা লুট করে তারা। আমার স্ত্রী প্রতিবাদ করলে তাকেও মারধর করে। কিছুক্ষণ পরেই আমার স্ত্রীর সামনেই আমাকে বাস থেকে জোর করে ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দেয়।’

স্ত্রীর বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বাসে আমার স্ত্রীকে ধর্ষণের পর তার সব কাপড় খুলে ধর্ষকরা তাদের কাছে রেখে দেয়। আমার স্ত্রীকে বিবস্ত্র অবস্থায় মহাসড়কের এক স্থানে ফেলে দিতে চেয়েছিল ধর্ষকরা। কিন্তু আমার স্ত্রী মানুষের সামনে বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ার লজ্জায় তাদের কাছে কাকুতি-মিনতি করে হাত-পা ধরে তার কাপড়চোপড় চেয়ে নেয়।

পরে তাকে রাজেন্দ্রপুর ওভারব্রিজের কাছে নামিয়ে চলে যায় ধর্ষকদল।’

পুলিশ সুপার এস এম সফিউল্লাহ প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘গ্রেপ্তার পাঁচজন স্বীকার করেছে ধর্ষণের বিষয়টি। তাদের ওই নারীর মুখোমুখি করলে তিনিও এই পাঁচজনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত না। একই পেশার হওয়ায় সকালে তিনজন পরিবহনশ্রমিক নিজেদের কাজে যোগ দেবে এমন প্রস্তুতিতে ওই বাসে ওঠে। সকালেই তারা তাদের নিজ নিজ কাজে যোগ দিত। পরে তারা ওখানে কাকতালীয়ভাবে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে। এটা আকস্মিক ঘটনা।’

এদিকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক এ এন এম আল মামুন জানান, প্রাথমিক পরীক্ষায় ওই পোশাকশ্রমিককে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তারপরও ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আলামত পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার পাঁচজনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি : তাকওয়া পরিবহনের বাসে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার পাঁচজন গতকাল গাজীপুরের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। শ্রীপুর থানা পুলিশ তাদের গতকাল বিকেলে আদালতে হাজির করে। গাজীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ইখলাস উদ্দিনের আদালতে আসামি সজিব ও শাহীন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। আসামি মো. রকিব মোল্লা ও সুমন হাসান জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জেনিফার জেরিনের আদালতে এবং আসামি মো. সুমন খান জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জুবাইদা নাসরিন বর্ণার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এ ছাড়া ধর্ষণের শিকার নারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আরা সুলতানার আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেন।

গত শনিবার ভোরে নওগাঁ থেকে বাসে এসে গাজীপুর মহানগরের ভোগড়া বাইপাসে স্বামীর সঙ্গে নামেন ধর্ষণের শিকার ওই নারী। পরে তারা ময়মনসিংহের স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসায় যেতে তাকওয়া পরিবহনে ওঠেন। পথে স্বামীকে মারধর করে রাস্তায় ফেলে দিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করে বাসটির পাঁচ কর্মী।