রাজধানীর মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু ও কলেজছাত্রী সামিয়া আফনান প্রীতি হত্যা মামলার তদন্ত প্রায় শেষ। কারা, কী কারণে টিপুকে হত্যা করেছে সংশ্লিষ্ট সব তথ্যই এখন পুলিশের হাতে। তবে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও অস্ত্র উদ্ধার করতে না পারায় তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) জমা দিতে পারছেন না ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) তদন্তকারী কর্মকর্তা। পলাতক মোল্লা শামীমকে পাওয়া গেলেই অস্ত্র ও মোটরসাইকেলের সন্ধান মিলবে। এরপরই চার্জশিট দাখিল করা হবে। গতকাল রবিবার তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট ডিবির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মো. রিফাত রহমান শামীম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘টিপু ও প্রীতি হত্যা মামলার তদন্তকাজ প্রায় শেষ। এখন পর্যন্ত ২২ জনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের সব তথ্যই পাওয়া গেছে। এখন মোল্লা শামীমের গ্রেপ্তার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে চার্জশিট দিতে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মোল্লা শামীম মোটরসাইকেলচালক ছিলেন। তিনিই শুটার মাসুম মোহাম্মদ আকাশকে তার মোটরসাইকেলে চড়িয়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে যান। হামলার পর একই বাহনে তারা পালিয়ে যান। মাসুম মোহাম্মদ আকাশ দেশের বাইরে পালিয়ে গেলেও তাকে দুবাই থেকে ধরে আনা হয়। এখন শামীমকে ভারতের কলকাতা থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। তার খুব কাছাকাছি ডিবি পুলিশের অবস্থান। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি। তার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা সহজ হবে।’
তদন্তসংশ্লিষ্ট ডিবির একাধিক কর্মকর্তা জানান, ঢাকার অপরাধ জগতের পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান, ফ্রিডম মানিক, দেশে কারাবন্দি একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা ও মতিঝিলের বেশ কয়েকজন স্থানীয় নেতার যৌথ পরিকল্পনাতেই টিপুকে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় কলেজছাত্রী প্রীতিও দুর্ভাগ্যজনকভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। যদিও সন্ত্রাসীদের টার্গেটে ছিলেন না তিনি। মতিঝিল এলাকার টেন্ডার ও চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিতেই তারা এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটায়।
টিপু হত্যায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে সর্বশেষ গ্রেপ্তার করা হয় মারুফ রেজা সাগর ও সোহেল শাহরিয়ার ওরফে শটগান সোহেলকে। রিমান্ডে দুদিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত শুক্রবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সর্বশেষ গ্রেপ্তার মারুফ রেজা সাগর ক্যাসিনোকাণ্ডের হোতা কারাবন্দি সম্রাট ও খালেদের ঘনিষ্ঠভাজন। সোহেল শাহরিয়ারের যোগাযোগ ছিল অপরাধজগতের শীর্ষ সন্ত্রাসী থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের অনেক নেতার সঙ্গে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য চেষ্টাও করছিলেন তিনি। তার সঙ্গে টিপুর রাজনৈতিক বিরোধ ছিল। গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে টিপু হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার না করে সোহেল শাহরিয়ারের জড়িত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গত ২৪ মার্চ রাতে রাজধানীর শাহজাহানপুরের আমতলীতে ব্যস্ত রাস্তায় অস্ত্রধারীর গুলিতে নিহত হন আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু। তার মাইক্রোবাসের পাশে রিকশায় থাকা বদরুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী সামিয়া আফনান প্রীতিও গুলিতে নিহত হন। আহত হন টিপুর গাড়িচালক মুন্না। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর ওই রাতেই শাহজাহানপুর থানায় টিপুর স্ত্রী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত কাউন্সিলর ফারহানা ইসলাম ডলি বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ২২ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা সবাই কারাগারে।