স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রেক্ষাপটে স্থানীয় ওষুধ শিল্পের বাংলাদেশ প্যাটেন্ট আইন ২০২২-এর প্রয়োজনীয় সংশোধন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্যাটেন্ট সুবিধা ২০৩৩ সাল পর্যন্ত অব্যাহত রাখতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সংশোধন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি খাত যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
গতকাল রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সাপোর্ট টু সাস্টেইনেবল গ্র্যাজুয়েশন প্রকল্প (এসএসজিপি) ও বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) যৌথভাবে আয়োজিত ‘প্রিপ্রেয়ার্ডনেস অব ফার্মাসিউটিক্যাল সেক্টর ফর এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ আহ্বান জানান। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা, বিল্ডের চেয়ারপারসন নিহাদ কবির এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রাহমান। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শরিফা খান।
সালমান এফ রহমান বলেন, উত্তরণ পরবর্তী সময়ে স্থানীয় ওষুধ শিল্পের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে প্যাটেন্ট আইন সংশোধনের প্রয়োজন। এছাড়া স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পরও যাতে ট্রিপস চুক্তির আওতায় স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে প্রাপ্ত বিশেষ সুবিধাসমূহ অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় প্রয়োজনীয় প্রচার প্রচারণা চালাতে হবে।
তিনি অবিলম্বে এপিআই পার্কে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ওষুধ শিল্পে ভবিষ্যতে আরও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে এবং এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এ শিল্পের আরও উন্নয়ন সম্ভব। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে প্রস্তুতকৃত ওষুধ পণ্যের প্যাটেন্টের আবেদন জমা দেওয়ার জন্য ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত মেইলবক্সের ব্যবস্থাটি পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিলোপ করা জরুরি।
ইআরডি সচিব শরিফা খান বলেন, ওষুধ শিল্পকে প্রস্তুত করার লক্ষ্যে সরকারি খাত, বেসরকারি খাত এবং শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি শক্তিশালী অংশীদারত্বমূলক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা বলেন, যে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি খাত বিশেষত ওষুধ শিল্পের সঙ্গে নিবিড় আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই প্যাটেন্ট আইন সংশোধন করা হবে।
বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, বাংলাদেশের প্যাটেন্ট আইনে প্যাটেন্ট প্রদানের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয় বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
সেমিনারে বক্তব্য প্রদানকালে বিল্ডের চেয়ারপারসন নিহাদ কবির মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য এ বিষয়ক প্রয়োজনীয় আইনি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, জৈবপ্রযুক্তিগত গবেষণার উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে দেশে বায়োটেক পার্ক ও জেনোম ভ্যালি প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। তিনি ওষুধ শিল্পে পোশাক খাতের মতো প্রণোদনা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুল মুক্তাদির তার উপস্থাপনায় বলেন, যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পরেও ২০৩৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ট্রিপস চুক্তির আওতায় প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধাগুলো যাতে অব্যাহত রাখা যায় সে ব্যাপারে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রাখতে হবে। এছাড়া আসন্ন সময়ে ওষুধ শিল্প খাতের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষিত দক্ষ জনবল তৈরির ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. তৌহিদুল ইসলাম তার উপস্থাপনায় বলেন, বাংলাদেশের সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় আলাদাভাবে বাংলাদেশের জন্য দেশভিত্তিক ট্রিপন ওয়েভারের জন্য আবেদন করতে পারে।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও এসএসজিপি’র প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আজিজ। এছাড়া ধন্যবাদ জ্ঞাপনমূলক বক্তব্য প্রদান করেন বিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম।