দর্শকপ্রিয় ঘরানায় মন দীপনের

নাটক নির্মাণের মাধ্যমেই নিজের পরিচিতি গড়ে তোলেন দীপংকর দীপন। তবে এখন তিনি পুরোদস্তুর চলচ্চিত্র নির্মাতা। বাংলাদেশের প্রথম পুলিশ অ্যাকশন ড্রামা ‘ঢাকা অ্যাটাক’ নির্মাণের পর তিনি সিনেমা জগতেও নিজের অবস্থান পোক্ত করেছেন। এই ছবি দারুণ ব্যবসায়িক সফলতা পাওয়ার পর দীপনের ছবির প্রতি দর্শকের আলাদা আগ্রহ রয়েছে। তবে তার জন্য অপেক্ষা বেশ দীর্ঘ হলো। আর বেশি অপেক্ষা নয়। বড়পর্দায় আসছে তার ছবি ‘অপারেশন সুন্দরবন’। এরই মধ্যে ট্রেলার প্রকাশিত হয়েছে। কেমন সাড়া পাচ্ছেন তাতে? জানতে চাইলে এই নির্মাতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খুব ভালো, ভীষণ ভালো। কেউ যদি ইউটিউবে ট্রেলারের নিচের কমেন্ট দেখেন তাহলে বুঝতে পারবেন। দেশের বাইরে থেকেও দর্শকের প্রচুর সাড়া পাচ্ছি। তবে কিছু রিভিউয়ার বলছেন মিস্ট্রিটা একটু কম পাচ্ছেন। তাদের বলব, আপনারা ঢাকা অ্যাটাককে মাথায় নিয়ে এই ছবিটি দেখবেন না। দুটি সম্পূর্ণ আলাদা ছবি। এভাবে দেখলে আপনাদের ভালো লাগবে বলে আমার বিশ্বাস।’

তবে এটাও তো অমান্য করা যায় না যে, ঢাকা অ্যাটাক দেখার পর দর্শকের মনে দীপনের নির্মাণ নিয়ে যে উচ্চাশা তৈরি হয়েছে সেটি তার পরবর্তী ছবিতে আরও বেশি প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে। সেদিক থেকে ‘অপারেশন সুন্দরবন’ কতটা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে? চানতে চাইতে এই নির্মাতা বলেন, ‘আবারও বলি, আপনারা ঢাকা অ্যাটাককে মাথায় নিয়ে এই ছবিটি দেখতে যাবেন না। কারণ ঢাকা অ্যাটাক ছিল একটি সরলরৈখিক গল্প। তাতে একটি গল্পমাত্র ছিল, একটি নায়ক ছিল, একটি ভিলেন ছিল। কিন্তু অপারেশন সুন্দরবন একটি নির্দিষ্ট জনপদের গল্প। সেই জনপদের মানুষ ভিন্ন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছে। তারা নানা ধরনের গল্প দেখেছে জীবন দিয়ে। তাই এখানে অনেকগুলো গল্প, অনেক নায়ক, অনেক ভিলেন, অনেক ভিকটিম।’

‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছিল বাংলাদেশ পুলিশের অর্থায়নে। আর ‘অপারেশন সুন্দরবন’ ছবিটি র‌্যাবের অর্থায়নে তৈরি। নির্দিষ্ট বাহিনীর হয়ে সিনেমা নির্মাণে ক্রিয়েটিভ স্বাধীনতা কতটা পাওয়া যায়? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা সত্য যে, এ ধরনের সিনেমায় কিছু শর্ত মেনে কাজ করতে হয়। পুলিশের সিনেমা মানে গল্পের শেষে পুলিশই জিতবে। র‌্যাবের সিনেমায় র‌্যাব জিতবে। তবে আমি এটাকে প্রতিবন্ধকতা মনে না করে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে থাকি। আমি মনে করি, এই বাধাগুলো পার করে কীভাবে এই বাহিনীর জয়টাকে দেখাব? সেই দেখানোর মধ্যে মুন্সিয়ানা আনার চেষ্টা করি। এজন্যই হয়তো ‘ঢাকা অ্যাটাক’ দেখার পর অনেক দর্শক বলেছেন পুলিশ বাহিনীর ছবির লিমিটেশন ছাড়িয়ে সর্বসাধারণের ছবি হয়ে উঠেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটাও ঠিক যে, আমি যে ধরনের গল্প বলতে চাই তাতে অনেক বড় আয়োজন লাগে। আর এই মুহূর্তে তেমন কোনো ফাইন্যান্সার পাই না, যারা আমাকে স্বাধীনভাবে সেই গল্পগুলো বলতে দেবে। আমার এখনো ১০টি গল্প তৈরি। তবে তার জন্য কোনো ফাইন্যান্সার পাইনি। পরে র‌্যাব থেকে যখন এই অফারটি পাই আমি সেটিকে লুফে নিই। এর পেছনেও কারণ আছে। আমাদের এখন এমন ছবি দরকার, যার সঙ্গে দর্শক সহজে কানেক্ট করতে পারবে। এমন দর্শকপ্রিয় ঘরানার ছবি যদি আমার দুই বছরে ১৫টি করতে পারি, তাহলে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি দাঁড়িয়ে যাবে। তখন বাইরের ফাইন্যান্সারাও লগ্নি করতে আগ্রহী হবে। তখন আমি আমার মনের মতো গল্পগুলো আরও সুন্দরভাবে বলতে পারব।’

তবে বিভিন্ন বাহিনীর ছবি বা বাণিজ্যিক ঘরানার ছবি নির্মাণে কোনো দুঃখ নেই এই নির্মাতার। তিনি বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রিতে সব ধরনের সিনেমা দরকার। তবে বাণিজ্যিক সিনেমা না হলে ইন্ডাস্ট্রি দাঁড়ায় না। একবার ইন্ডাস্ট্রি দাঁড়িয়ে গেলে আমি জীবনঘনিষ্ঠ সিনেমাও বানাব, সেটি দর্শকপ্রিয় হোক বা না হোক সেদিকে তাকাব না।’