পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি এবং সামাজিক মাধ্যমে নানা আলোচিত সংলাপের জন্য পরিচিত অনুব্রত মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০২০ সালের গরু পাচারের এক মামলায় গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেপ্তার করে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, অনুব্রতকে বীরভূম জেলায় নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে তার বোলপুরের বাড়িতে হাজির হয় সিবিআই এবং তাদের সঙ্গে আসে ভারতের সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) অন্তত ৩০টি গাড়ির একটি বহর। এরপর তার পুরো বাড়ি ঘিরে ফেলা হয়।
তুলে নেওয়ার আগে তৃণমূলের এই নেতাকে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সিবিআইয়ের কর্মকর্তারা। মেডিকেল পরীক্ষা শেষে তাকে আসানসোলের একটি আদালতে হাজির করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশটির কেন্দ্রীয় এই তদন্ত সংস্থা অনুব্রতকে গ্রেপ্তারের আগে অন্তত ১০ বার তলব করেছিল। কিন্তু তার আইনজীবীরা শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে সময় চেয়ে আসছিলেন। এর আগে এই মামলায় তাকে দুবার জিজ্ঞাসাবাদও করেছিল সিবিআই।
২০২০ সালে সিবিআইয়ের তদন্তে গরু পাচার কেলেঙ্কারিতে উঠে আসে অনুব্রত মণ্ডলের নাম। তখন সাইগাল হোসেন নামে তার এক দেহরক্ষীকেও আটক করে সিবিআই। সংস্থাটির তদন্ত অনুযায়ী ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ২০ হাজারের বেশি গবাদিপশু জব্দ করে। সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাচারের সময় এসব পশু জব্দ করা হয়।
এই নিয়ে কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় থাকা ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠা তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করল কেন্দ্রীয় দুই সংস্থা। অনুব্রতের আগে শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার দায়ে তৃণমূলের সাবেক মহাসচিব ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করে আর্থিক দুর্নীতি তদন্ত সংস্থা ইডি।