চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচারের শিকার কক্সবাজারের রামুর পাঁচ যুবক আট বছর পর দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পালস বাংলাদেশ তাদের দেশে ফিরিয়ে আনে। আট বছর ভারতের কারাগারে বন্দী জীবন শেষে স্বজনদের পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
জানা গেছে, চাকরির প্রলোভনে পড়ে দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ে ভারতে পাড়ি জমান কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের উত্তর পাড়ার আলী আহমদের ছেলে শফিউল আলম, সুলতান আহমদের ছেলে আবদুল হামিদ, দক্ষিণ পাড়ার আবু তাহেরের ছেলে সোহেল রানা, পূর্ব তিতার পাড়ার মৃত রশিদ আহমদের ছেলে নুরুল আজিম ও টেকপাড়ার মৃত রশিদ আহমদের ছেলে মুহাম্মদ ইসমাঈল।
তবে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও আইনি জটিলতায় ভারতের কারাগারে বছরের পর বছর বন্দী ছিলেন তারা। এ কারণে বাংলাদেশে স্বজনদের সঙ্গেও যোগাযোগ বন্ধ ছিল। পরে খবর পেয়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা-পালস বাংলাদেশের সহায়তায় পাঁচ যুবক কারামুক্ত করা হয়।
জানা গেছে, তাদের সঙ্গে যাওয়া মনজুর আলম নামে একজন ভারতের কারাগারে অসুস্থ হয়ে প্রায় তিন বছর আগে মারা যান।
ভারত থেকে ফেরত আসা নুরুল আজিম জানান, ‘দালালদের খপ্পরে পড়ে বেশি বেতনের চাকরির ফাঁদে পড়ে ভারতে পাড়ি জমাই। ভারত যাওয়ার পর দালাল চক্র আমাদের ছেড়ে দিয়ে চলে যায়। একপর্যায়ে পুলিশের হাতে আটক হয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এভাবে আমরা পাঁচজন দীর্ঘ ৮ বছর ভারতের কারাগারে ছিলাম। এখন দেশে আসতে পেরে খুব খুশি লাগছে।’
‘পালস বাংলাদেশ’র প্রধান নির্বাহী সাইফুল ইসলাম কলিম বলেছেন, ‘বছরখানেক আগে খবর আসে রামুর ছয় ছেলে ভারতের কারাগারে বন্দী আছে। পরে নিশ্চিত করা হয় দীর্ঘ আট বছর ধরে ভারতের জম্মু কাশ্মীর, হরিয়ানা কারাগারে বন্দী এ পাঁচ যুবক। তাদের মুক্ত করতে পরিবারের সদস্যরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছে। একটি টিমও ভারতে পাঠিয়েছিল। নানা জটিলতায় কারামুক্ত করতে পারেনি। কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাঁচজনকে কারামুক্ত করেছি।’
এদিকে ভারত থেকে ফিরিয়ে যুবকদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠান করা হয়। শুক্রবার দুপুরে কক্সবাজার বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন পালসের হেড অফিসে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক তরিকুল ইসলাম।
এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (মানব সম্পদ ও উন্নয়ন) নাসিম আহমেদ, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওশের ইবনে হালিম, ক্যাম্প ২৩ ইনচার্জ, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুজিবুল ইসলাম, পালসের আবদুল হামিদ, আবুল বাশের, মাহবুবুল আলমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।