ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সমন্বয়ে গঠিত (ব্রিকস) নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এনডিবি) সদস্য হওয়ার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ। এজন্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ‘নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-২০২২’ নামে আইনের একটি খসড়া তৈরি করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (এশিয়া, জেইসি ও এফঅ্যান্ডএফ) অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ্রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঋণ নেওয়ার জন্য নয়, নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সদস্য হওয়ার জন্য বাংলাদেশের একটি আইনি কাঠামো দরকার, সেটা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বহুপক্ষীয় ঋণদাতা সংস্থা নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করে বাংলাদেশ। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার (ব্রিকস) যৌথ উদ্যোগে ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ব্যাংকটি।
অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশ ব্রিকস নেতৃত্বাধীন ঋণদাতার সদস্য হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে যা দেশের জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়নের বিকল্প উৎস হিসেবে উন্মুক্ত হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশকে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সদস্য হিসেবে ১৮ কোটি ৮৪ লাখ ডলার পরিশোধিত মূলধন হিসেবে পরিশোধ করতে হবে। এই অর্থ প্রদানের আগে বাংলাদেশকে আইন প্রণয়ন করতে হবে। আইনের খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার পর সংসদে পাঠানো হবে।
কর্মকর্তারা আরও বলেন, বহুপক্ষীয় এই ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ পাওয়ার জন্য আইনি কাঠামো প্রয়োজন। এজন্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে খসড়া চূড়ান্ত করার কাজ করছে। খসড়া চূড়ান্ত করার জন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও বিভাগের মতামত চেয়েছে ইআরডি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আইনটি প্রণয়ন করার পরে, মন্ত্রণালয় নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি) থেকে ঋণ নেওয়ার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং প্রাসঙ্গিক প্রক্রিয়াগুলো সম্পূর্ণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে সদস্যপদের অর্থ প্রদানের সঙ্গে আইনের কোনো সম্পর্ক নেই, তবে এনডিবি থেকে তহবিল চাওয়ার প্রক্রিয়া ঠিক করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রয়োজন।
এর আগে বাংলাদেশ, উরুগুয়ে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ১ শতাংশ করে শেয়ার দিতে সম্মত হয়েছে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক। কর্মকর্তারা বলেন, নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের জন্য প্রণয়ন করা আইনের খসড়া আইনটি চীনের নেতৃত্বাধীন ঋণদাতা এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) আইন অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে।
নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের মোট শেয়ার মূল্য ৯৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। এর মধ্যে পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ১৮ কোটি ৮৪ লাখ ডলার, অনুমোদিত মূলধন ৭৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। পরিশোধিত মূলধনের ১৮ কোটি ৮৪ লাখ ডলার আগামী সাত বছরে সাতটি কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে।
২০১৫ সালের শেষের দিকে যাত্রা শুরুর পর নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এ পর্যন্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভৌত ও সামাজিক অবকাঠামো, সেচ, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, পয়ঃনিষ্কাশন, সবুজ জ্বালানি, নগর উন্নয়ন সংক্রান্ত ৮০টি বিভিন্ন প্রকল্পে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দিয়েছে।
এ বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার দেশ রূপান্তরকে বলেন, নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক সদস্য দেশগুলোকে খুব স্বল্পসুদে ঋণ দেয়। তারা সব দেশকেও সদস্যপদ দেয় না। বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হওয়াতেই সদস্যপদ লাভ করেছে।
তিনি আরও বলেন, যদি সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তাহলে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে না নিয়ে এনডিবি থেকে ঋণ নেওয়া একটি বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে দেয় নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক। বিশ্বব্যাংকের মতো দীর্ঘ সময় নেয় না ঋণ দিতে।