দেশে সাইবার অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ৫০ দশমিক ২৭ শতাংশই নানাভাবে বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে ছবি বিকৃত করে অপপ্রচার, পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট, সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার এবং অনলাইনে-ফোনে মেসেজ পাঠিয়ে হুমকি দিয়ে মানসিক হয়রানি। তাদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি হয়রানি ও পর্নোগ্রাফির শিকার হচ্ছেন নারীরা। সাইবার অপরাধের শিকার পুরুষদের মধ্যে বেশিরভাগই মোবাইল ব্যাংকিং ও এটিএম কার্ড হ্যাকিংয়ের
শিকার হচ্ছেন। অনলাইনে পণ্য কিনতে গিয়ে পুরুষদের তুলনায় বেশি প্রতারণার শিকার হচ্ছেন নারীরা। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন’-এর (সিসিএ ফাউন্ডেশন) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশে সাইবার অপরাধপ্রবণতা ২০২২’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ২ মার্চ পর্যন্ত ব্যক্তিপর্যায়ে ভুক্তভোগী ১৯৯ জনকে ১৮টি প্রশ্ন করা হয়। সেই মতামতের ভিত্তিতে এ গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন গবেষণাদলের প্রধান ইস্টওয়েস্ট বিশ^বিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক মনিরা নাজমী জাহান। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস-পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার বাড়ছে। ভুক্তভোগীদের বেশির ভাগের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছর, এই হার ৮০ দশমিক ৯০ শতাংশ। হয়রানির শিকারের পর ভুক্তভোগীদের ৭৩ দশমিক ৪ শতাংশই আইনের আশ্রয় নেন না। এ ছাড়া আইনের আশ্রয় নেওয়া ভুক্তভোগীদের মাত্র ৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ আইনি সেবার প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ছবি বিকৃত করে অপপ্রচার, পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং অনলাইনে-ফোনে মেসেজ পাঠিয়ে হুমকি দিয়ে মানসিক হয়রানির ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। এসব অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের বেশির ভাগেরই বয়স ১৮-৪০ বছরের মধ্যে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার অপরাধের শিকার ভুক্তভোগীদের মধ্যে মাত্র ৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ দিয়ে ফল পেয়েছেন। ৫৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ ভুক্তভোগী অভিযোগ দিয়ে কোনো ফল পাননি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লোকলজ্জার ভয়সহ বিভিন্ন কারণে অপরাধের বিষয়ে ভুক্তভোগীরা কোথাও অভিযোগ করেন না। সার্বিক পরিস্থিতিতে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপকভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ প্রতিবেদনে আটটি সুপারিশ তুলে ধরেছে সিসিএ ফাউন্ডেশন।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা কাজী মুস্তাফিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচকদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবির প্রেসিডেন্ট ইমদাদুল হক, প্রযুক্তিবিদদের আন্তর্জাতিক সংগঠন আইসাকা ঢাকা চ্যাপ্টারের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসাইন ও ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার সুলতানা ইশরাত জাহান।