শোক দিবসের অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

বরগুনায় শোক দিবসের অনুষ্ঠান চলাকালে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক।

সোমবার সকাল ১১টার দিকে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শোক দিবসের আলোচনা সভায় উপস্থিত ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মাঝে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

একপর্যায়ে পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিপেটা করে পুলিশ।

এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের দুই নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

এর আগে গত ২৪ জুলাই জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হলে নতুন কমিটি ও পদবঞ্চিত নেতা কর্মী ও সমর্থকদের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে আসছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকাল ১১টার দিকে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে শোক দিবসের আলোচনা সভায় যোগ দেন বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বরগুনা- ১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাড. ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমানসহ জেলা পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন নেতারা।

এ সময় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল কবীর রেজা, সাধারণ সম্পাদক তৌশিকুর রহমান ইমরান সেখানে উপস্থিত হলে বর্তমান ছাত্রলীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি সবুজ মোল্লা এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য রিশাত হাসান প্রিন্স ও তাদের কর্মী ও সমর্থকেরা সেখানে উপস্থিত হয়। পরে দুই গ্রুপের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সূত্রপাত হলেও তা মুহূর্তেই জেলা শহর উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। ছাত্রলীগের একটা অংশ রামদাছেনাসহ বরগুনা শহরের লঞ্চঘাট চত্বর দখলে নেয়।

বরগুনা সদর থানার এক ঝাঁক পুলিশ লঞ্চঘাটে হানা দিয়ে আগত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদেরকে তাড়িয়ে দেয় এবং বেশ কিছু রামদা ছেনাসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। শহরে পুলিশি টহল ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল কবির রেজা জানান, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শিল্পকলায় প্রবেশের সময় শিল্পকলার ছাদ থেকে তাদের ওপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে অজ্ঞাত লোকজন। তাদের ইট-পাটকেল নিক্ষেপের কারণে পুলিশের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠিচার্জ শুরু করে।

নদীবন্দর থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মী নদীবন্দরে যায়নি। আর উদ্ধার হওয়া দেশীয় অস্ত্র ছাত্রলীগের নয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম তারিকুল ইসলাম বলেন, শিল্পকলা একাডেমির সামনে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ গিয়ে সকলকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় একটি গ্রুপ শিল্পকলা একাডেমিতে ঢোকে। শিল্পকলা একাডেমির দ্বিতীয় তলা থেকে পুলিশের গাড়িতে ইট ছুড়ে মারে। পুলিশ আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে।