এক লাখ ২০ হাজার টন ইউরিয়া সার, টিসিবির জন্য ১ কোটি ২৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল ক্রয় ও ৪৬২ কোটি টাকায় ৬ বার্থ অপারেটর নিয়োগসহ ১৬টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এজন্য ব্যয় হবে ১ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা। মোট অর্থায়নের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৫৬৩ কোটি ৪৭ লাখ এবং দেশীয় ব্যাংক, এডিবি ও বিশ্বব্যাংকের ঋণ পাওয়া যাবে ১ হাজার ৬০ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
গতকাল বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এসব প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুল বারিক।
তিনি বলেন, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য ১ কোটি ২৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কিনবে সরকার। এ জন্য খরচ হবে প্রায় ২০৫ কোটি টাকা। এ তেল টিসিবি সাধারণ মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রি করবে। যেহেতু এসব পণ্য টিসিবির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করা হবে, তাই সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে এসব পণ্য কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মাসে ২০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল লাগে টিসিবির।
সভা শেষে জানানো হয়, দুটি ক্রয় প্রস্তাবের বিপরীতে ১ কোটি ২৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রস্তাবের বিপরীতে সুপার অয়েল রিফাইনারির কাছ থেকে ৪০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনা হবে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি লিটার তেল ১৭৩ টাকা ৯৫ পয়সায় সরকারের কাছে বিক্রি করবে। বাকি একটি প্রস্তাবের বিপরীতে ৮৫ লাখ লিটার তেল কেনা হবে বসুন্ধরা, সুনসিং এডিবল অয়েল ও সিনহা এডিবল অয়েলের কাছ থেকে। এ তিন প্রতিষ্ঠান প্রতি লিটার সয়াবিন তেল সরকারের কাছে বিক্রি করবে ১৭১ টাকায়। এর বাইরে সরকার স্থানীয় একাধিক কোম্পানির কাছ থেকে ১১১ টাকা কেজিতে মসুর ডাল কিনবে টিসিবির জন্য। এতে খরচ হবে ৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
অতিরিক্ত সচিব বলেন, কাতার, সৌদি আরব ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে ৬০৫ কোটি ৪ লাখ ৮৮ হাজার টাকা ব্যয়ে এক লাখ ২০ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কিনবে সরকার। ১৫২ কোটি ৫০ লাখ ১ হাজার ২৫০ টাকায় কাতারের মুনতাজা থেকে প্রথম লটে ৩০ হাজার টন ব্যাগড ইউরিয়া সার, কাফকো বাংলাদেশ থেকে তৃতীয় লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ১৫১ কোটি ৫৭ লাখ ৬৩ হাজার ১২৫ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও ১৫১ কোটি ৮৮ লাখ ৩৩ হাজার ২৫ টাকায় সৌদি আরবের এসএবিআইসি এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে চতুর্থ লটে ৩০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার এবং ১৪৯ কোটি ৮ লাখ ৯১ হাজার ২৫০ টাকায় পঞ্চম লটে ৩০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জিসিবি এলাকায় ৫ বছরের জন্য ৪৬২ কোটি ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৬ কোম্পানি থেকে ৬ লটে বার্থ অপারেটর (কনটেইনার) নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এছাড়াও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক ‘কুষ্টিয়া (ত্রিমোহনী)-মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ আঞ্চলিক মহাসড়ক কুষ্টিয়া থেকে মেহেরপুর পর্যন্ত যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ প্রকল্পের কাজ জহিরুল লিমিটেডের কাছ থেকে ১০১ কোটি ৪১ লাখ ১০ হাজার ৬৪৮ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন। স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন ঢাকা ওয়াসাকে ‘ঢাকা এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই’ প্রকল্পের আওতায় ডিজাইন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন অব ফিডার লাইন ইনসাইড ঢাকা সিটি কাজের পূর্তকাজ চায়নার চায়না জিও-ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের কাছ থেকে ৩৭২ কোটি ৯২ লাখ ১৭ হাজার ৪১৪ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।