হাইকোর্টের রায়

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতের মামলা চলবে

শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ও গ্রামীণ টেলিকমের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে করা মামলার কার্যক্রম চলবে বলে রায় দিয়েছে উচ্চ আদালত। মামলা বাতিল প্রশ্নে দেওয়া রুল খারিজ করে গতকাল বুধবার এ রায় দেয় বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ। 

গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ জমা না দেওয়া, শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী না করা, গণছুটি নগদায়ন না করে শ্রম আইনের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ এনে ড. ইউনূসসহ প্রতিষ্ঠানের চারজনের বিরুদ্ধে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার শ্রম আদালতে মামলা করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তর। মামলায় ড. ইউনূস ছাড়াও অপর বিবাদীরা হলেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুরজাহান বেগম ও মো. শাহজাহান।

এরপর এ মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। হাইকোর্ট গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মামলার কার্যক্রম স্থগিতের পাশাপাশি বাতিল প্রশ্নে রুল দেয়। পরে হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। গত ৭ জুন আপিল বিভাগ এক আদেশে রুলের শুনানি দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে এই সময় পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকবে বলে আপিল বিভাগের আদেশে বলা হয়। এর ধারাবাহিকতায় হাইকোর্টের এ রায় আসে।

আদালতে ড. ইউনূসের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। অ্যাডভোকেট খুরশীদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাইকোর্টে আমাদের যুক্তি ছিল উনি (ড. ইউনূস) শ্রম আইন লঙ্ঘন করেছেন। সে লঙ্ঘনটা  নিরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে। এজন্যই তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালতও তা আমলে নিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘মামলা এখন অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে আছে। হাইকোর্টের এ রায়ের ফলে যেভাবে কার্যক্রম চলছিল সেভাবে চলবে। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সেটি সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে প্রমাণ হতে হবে। তাহলে নির্ণয় করা যাবে যে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের গুরুত্ব কতটুকু।’