বহুল প্রত্যাশিত বিলে বাইডেনের স্বাক্ষর

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ‘ঐতিহাসিক’ অর্থায়ন

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং ওষুধের মূল্য কমাতে ৭০ হাজার কোটি ডলারের বহুল প্রত্যাশিত বিলে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কেবল জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাতেই ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের প্যাকেজে অনুমোদন দিয়েছেন তিনি। 

জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিপুল এই অর্থায়নকে দেশটির ইতিহাসে এই খাতের সর্বোচ্চ অর্থায়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে বিবিসির প্রতিবেদনে উদ্ধৃত ক্লাইমেট অ্যাকশন ট্র্যাকারের বিজ্ঞানীদের মতে, এই বিলটি ভবিষ্যতের বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধে খুব বেশি ভূমিকা রাখবে তা যেমন বলা যায় না, তেমনি একেবারেই ভূমিকা রাখবে না এটাও বলা যাবে না।  

বিবিসি আরও জানায়, বাইডেন স্বাক্ষরিত এই বিলের আওতায় থাকা জলবায়ু প্যাকেজের কারণে ২০৩০ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের কার্বন নিঃসরণ ৪৪ শতাংশ হ্রাস পাবে। বিলটি পাস না হলে হয়তো একই সময়ে কার্বন নিঃসরণ ৩৫ শতাংশ কমত।

গত মঙ্গলবার বাইডেনের স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিলটি আইনে পরিণত হয়। রিপাবলিকানদের বিরোধিতার পরও বিল পাস হওয়ায় বাইডেন বলেন,  ‘কংগ্রেসের প্রত্যেক রিপাবলিকান বিলটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল। এরপরও এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত এসেছে।’

আসলে এই আইন যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্বন কমাতে বাধ্য করবে বিষয়টি এমন নয়। তবে যারা কার্বন কমাতে চেষ্টা করবে, নবায়নযোগ্য পরিবেশবান্ধব জ্বালানির দিকে গুরুত্ব দেবে, তাদের জন্য কর হ্রাস ও অর্থ ছাড়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। 

এই আইনে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী বয়স্করা ওষুধ কিনতে গেলে দামে ছাড় পাবেন। বড় বড় করপোরেশনের জন্য সর্বনিম্ন ১৫ শতাংশ কর নির্ধারণ করা হয়েছে। কর আদায় নিশ্চিতে ট্যাক্স এজেন্ট নিয়োগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। 

জলবায়ু গুরুত্ব পেলেও বিলটির কাগুজে নাম ইনফ্ল্যাশন রিডাকশন অ্যাক্ট (আইআরএ)। তবে এই আইনে মুদ্রাস্ফীতি কমবে কিনা তা নিয়ে বিতর্ক আছে।

রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল বলেন, ‘বিপুল পরিমাণ ব্যয় করে মূল্যস্ফীতির রেকর্ড গড়ে ডেমোক্র্যাটরা গত বছর আমাদের লুটে নিয়েছিল। তার সমাধানে এ বছর তারা দ্বিতীয়বারও একই কাজ করছে। পক্ষপাতদুষ্ট যে বিলে স্বাক্ষর করে বাইডেন আইনে পরিণত করেছেন, তা কর বাড়াবে, জ্বালানির ব্যয় বাড়াবে।’