আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খেলা হবে, খেলা হবে। আন্দোলনে খেলা হবে, রাজপথে খেলা হবে এবং নির্বাচনেও খেলা হবে। সেই খেলার প্রস্তুতি নিতে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নিতে বলেন তিনি।
গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর-দক্ষিণের যৌথ আয়োজনে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনের সড়কে ‘অপপ্রচার-গুজবের মাধ্যমে দেশবিরোধী অপশক্তি বিএনপি ও তার দোসরদের সন্ত্রাস এবং নৈরাজ্য সৃষ্টির উসকানির’ প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে বিএনপির বিরুদ্ধে দলের সবাইকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে বলেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক।
বিএনপির সন্ত্রাস-নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে ঢাকা ছাড়াও সারা দেশে গতকাল একযোগে এই কর্মসূচি পালন করে আওয়ামী লীগ। ঢাকায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তরের সভাপতি বজলুর রহমান। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন রিয়াজসহ দুই মহানগরের বিভিন্ন পদের নেতারা। সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মৎস্য ভবন, প্রেস ক্লাব ও সচিবালয়ের সামনের দিক দিয়ে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘গতবার নির্বাচনের আগে জগাখিচুড়ি ঐক্য করে ধরা খেয়েছেন, আবারও ধরা খাবেন।’ এসময় তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, ‘দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রমাণ করতে হবে এই দেশ মুক্তিযুদ্ধের, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার বাংলাদেশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘জঙ্গিবাদের ঠিকানা, পৃষ্ঠপোষক ও কারখানা বিএনপি। তাদের রুখতে হবে, মোকাবিলা করতে হবে। বিএনপি-জামাত জোটের জঙ্গিবাদ, বোমাবাজি ও আগুন সন্ত্রাস করে ক্ষমতায় আসার দিন শেষ। বিএনপির ক্ষমতায় থেকে যে বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছিল বাঙালি আর সেই বাংলাদেশে ফিরে যাবে না।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপির নেতা মির্জা ফখরুল হুমকি দেন আওয়ামী লীগের পায়ের নিচে মাটি নেই। আজ জনতার ঢল দেখেন, বিএনপি কি এই ঢল কখনো দেখেছে। আওয়ামী লীগ এদেশের মাটি ও মানুষের ভেতর থেকে জন্ম হয়েছে। এই দলের শেকড় অনেক গভীরে।’
বাংলাদেশে সফররত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করেছেন জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি সফরে গিয়ে জাতিসংঘের ধারে ধারে ঘুরেও কারও দেখা পায়নি। দেখা করার সুযোগ পেয়েছে ছোট সারির কর্মকর্তাদের সঙ্গে। সেখানে নালিশ করে এসেছে। বিএনপি নালিশ পার্টি। এই নালিশ পার্টি সন্ধ্যার পরে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাসে বাসা-বাড়িতে গিয়ে নালিশ করে। এই নালিশের বিচার করার ক্ষমতা মিশেলের, জাতিসংঘের নেই।’
সমাবেশস্থলের মঞ্চে ওঠা নিয়ে বিশৃঙ্খলা দেখে সমালোচনা করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক। আওয়ামী লীগের নেতারা কেন মঞ্চমুখী হবেন এই প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘নেতারা কর্মীদের সঙ্গে চলবেন। এই দলে নেতা একজন। তিনি হলেন শেখ হাসিনা। আমরা সবাই কর্মী।’
সমাবেশে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘এই দেশ জঙ্গিবাদের, সন্ত্রাসের নয়। এই দেশ সম্প্রীতির, শান্তির ও সাম্যের। এই দেশ বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার।’
সভাপতিমন্ডলীর অপর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘বিএনপি এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে আসবে না বলেছে। কিন্তু আমরা বলছি এই সরকারের অধীনে বিএনপিকে নির্বাচনে আসতে হবে। দেশে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।’
সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘ল-নে বসে তারেক জিয়া সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের শান্তি নষ্ট করতে চায়। বিএনপির কিছুই করার ক্ষমতা নেই।’ বিএনপির প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের রাজনীতি শিষ্টাচারের বাইরে গেলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।’
আব্দুর রহমান বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে এবার শেষ লড়াই, পাঞ্জা হবে। অসাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর আনতে দেব না। আগামী নির্বাচন এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে শেখ হাসিনার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেই হবে।’ আর এজন্য সব নেতাকর্মীকে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ‘যেখানেই বিএনপির সন্ত্রাস, সেখানেই প্রতিবাদ করার প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে থাকতে হবে।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘আজ আওয়ামী লীগের অসংখ্য জনতা রাজপথে নেমে এসেছে। আমাদের লক্ষ্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বাস্তবায়ন। আর বিএনপি এই দেশকে আফগানিস্তান-পাকিস্তান বানাতে চায়। সেজন্য তারা হুমকি দেয়। আমাদেরন প্রস্তুতি নিতে হবে বিএনপির সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করার।’
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপির পেট্রলবোমা বাহিনী মাঠে নেমেছে। আজ থেকে আওয়ামী লীগও মাঠে নেমেছে। বোমাসন্ত্রাসীদের প্রতিহত করব। শান্তির বাংলাদেশকে অশান্ত করতে কাউকে সুযোগ দেওয়া হবে না।’
এদিকে আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ভীষণ যানজট দেখা দেয়। নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনের সড়কে সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করে। মৎস্য ভবনের সামনে থেকে শুরু করে শাহবাগের দিকের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় যানজট পুরো শহরে ছড়িয়ে পড়ে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে বেলা ১২টা থেকে শুরু হওয়া যানজট রাত পর্যন্ত গড়ায়। যানজটের কবলে পড়ে এক পর্যায়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরি করা ঘরমুখী মানুষদের পায়ে হেঁটে চলাচল করতে দেখা যায়।