প্রায় সাত বছর আগে চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর ঈশা খাঁ ঘাঁটির দুটি মসজিদে জঙ্গিগোষ্ঠী জেএমবির বোমা হামলার মামলায় পাঁচ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুল হালিম এ রায় দেন।
দণ্ডিতরা হলো নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য এম সাখাওয়াত হোসেন, অস্থায়ী কর্মচারী বলকিপার আবদুল মান্নান, রমজান আলী ও বাবুল রহমান রনি এবং আবদুল গাফফার নামে বেসামরিক এক ব্যক্তি। এদের মধ্যে আবদুল মান্নান ও আবদুল গাফফার আপন ভাই। আসামিদের মধ্যে সাখাওয়াত ছাড়া বাকিরা রায় ঘোষণার সময় আদালতে হাজির ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মনোরঞ্জন দাশ দেশ রূপান্তরকে বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ আইনের ৬ (২) ও ১২ ধারায় পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে আদালত। একই ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে দায়ের হওয়া পৃথক অভিযোগের বিচার অন্য আদালতে চলছে।
মামলার নথিপত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজের পর চট্টগ্রামের নৌবাহিনীর ঈশা খাঁ ঘাঁটির ভেতরে সুরক্ষিত এলাকায় দুটি মসজিদে ১০ মিনিটের ব্যবধানে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মসজিদগুলোতে শুক্রবার বেসামরিক লোকজনও নামাজ পড়তেন। বিস্ফোরণে সামরিক-বেসামরিক মিলিয়ে ২৪ জন আহত হন। ঘটনার পরপরই ঈশা খাঁ ঘাঁটির সব গেট বন্ধ করে তল্লাশি চালানো হয়। একটি ব্যারাকের নিচতলার শৌচাগারে পরিত্যক্ত অবস্থায় অবিস্ফোরিত বোমা এবং একটি সুইসাইড ভেস্ট (আত্মঘাতী হামলার জন্য বিস্ফোরকপূর্ণ বন্ধনী) পাওয়া যায়।
বিস্ফোরণের ৯ মাস পর ২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর নেভাল প্রভোস্ট মার্শাল কমান্ডার এম আবু সাঈদ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী ও বিস্ফোরক আইনে নগরীর ইপিজেড থানায় মামলা করেন। নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য এম সাখাওয়াত হোসেন, বলকিপার আবদুল মান্নান ও রমজান আলী এবং বাবুল রহমান রনিকে মামলায় আসামি করা হয়।
তদন্তে আবদুল মান্নানের বড় ভাই জেএমবি সদস্য আবদুল গাফফারের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাকেসহ মোট পাঁচজনকে আসামি করে হামলার ২২ মাস পর ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর আদালতে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন ইপিজেড থানার পরিদর্শক মুহাম্মদ ওসমান গণি। এর মধ্যে একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এবং আরেকটি বিস্ফোরক আইনে। উভয় অভিযোগপত্রে মোট ২৪ জনকে সাক্ষী করা হয়।
২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়। চলতি বছরের ২৩ মার্চ এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মোট ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ১ আগস্ট যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করে। মাত্র পাঁচ মাসে সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এ রায় দিয়েছে।