ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে সাত ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ

তরঙ্গ বরাদ্দ নিয়ে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের সবচেয়ে বড় নিলাম অনুষ্ঠিত হয় গত এপ্রিলে। নিলামে দেশের চার মোবাইল অপারেটর দুটি ব্যান্ডের ১৯০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কেনে। এর মধ্য দিয়ে মোবাইল অপারেটরগুলোর নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হওয়ার কথা। ইন্টারনেট সেবার মান আরও বৃদ্ধির প্রত্যাশা ছিল সবার। কিন্তু সাত মাসের ব্যবধানে উল্টো মোবাইল ইন্টারনেটের গতি কিছুটা কমে গেছে। আবার চলতি বছরের জুলাইয়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে গতি কিছুটা বাড়লেও দেশভিত্তিক তালিকায় সাত ধাপ পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। এর মানে, গত সাত মাসে ব্রডব্যান্ডে বাংলাদেশ যতটা এগিয়েছে, তারচেয়ে বেশি এগিয়েছে অন্য দেশগুলো।

প্রতি মাসে বিভিন্ন দেশের ইন্টারনেটের গতি পরীক্ষা করে তুলনামূলক চিত্র প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওকলা। এ প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ডাউনলোড গতিতে ১৭৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯৪তম। সে সময় ব্রডব্যান্ডে বাংলাদেশের ডাউনলোড গতি ছিল ৩১ দশমিক ১২ এমবিপিএস (মেগাবিট পার সেকেন্ড)। সাত মাস পর চলতি জুলাইয়ে এসে ডাউনলোড গতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৫০ এমবিপিএসে। কিন্তু এ সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশের অবস্থান নেমে গেছে ১০১-এ।

অবশ্য ব্রডব্যান্ডে ডাউনলোড গতি কিছুটা বাড়লেও বৈশি^ক ডাউনলোড গড় গতির তুলনায় অনেক নিচে রয়েছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের জুলাইয়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে বৈশি^ক ডাউনলোড গতির গড় ছিল ৬৭ দশমিক ২৫ এমবিপিএস, যা গত ডিসেম্বরে ছিল ৫৯ দশমিক ৭৭ এমবিপিএস। বিশে^র অন্যান্য দেশ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ডাউনলোড গতিতে যেভাবে এগিয়েছে, বাংলাদেশ তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পারেনি।  

গত জুলাইয়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ডাউনলোড গতিতে নিকারাগুয়া ৯১তম অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় গত সাত মাসে দেশটি ১৩ ধাপ এগিয়েছে। একই সময়ে ফিলিপাইন ৬৩তম অবস্থান থেকে ৪৬তম অবস্থানে উঠে এসেছে। এ সময়ে দেশটির ব্রডব্যান্ডে ডাউনলোড গতি ৫০ দশমিক ২৬ এমবিপিএস থেকে ৭৫ দশমিক ৬২ এমবিপিএসে উন্নীত হয়েছে। যুদ্ধাবস্থার মধ্যে ৬১তম অবস্থানে রয়েছে ইউক্রেন। ব্রডব্যান্ডে ডাউনলোড গতিতে বিশে^ শীর্ষে রয়েছে চিলি, দেশটির ডাউনলোড গতি হচ্ছে ২১২ দশমিক ৯৮ এমবিপিএস। এরপরের অবস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, চীন, হংকং, ম্যাকাও, যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক, জাপান ও নিউজিল্যান্ড। 

তবে ব্রডব্যান্ডের তুলনায় নাজুক অবস্থায় রয়েছে দেশের মোবাইল ইন্টারনেটের গতি। তরঙ্গ সক্ষমতা বাড়ানোর পরও ইন্টারনেটে কাক্সিক্ষত সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে বাংলাদেশের মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো। গত সাত মাসে বৈশি^ক তালিকায় অবস্থান অপরিবর্তিত থাকলেও বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেটের ডাউনলোডের গতি আরও কমেছে। গত জুলাইয়ে দেশে মোবাইল ইন্টারনেটের ডাউনলোডের গতি ছিল ৯ দশমিক ৬৪ এমবিপিএস, যা গত ডিসেম্বরে ছিল ১০ দশমিক ৫১ এমবিপিএস। গত জুলাইয়ে বিশে^ মোবাইল ইন্টারনেটে গড় ডাউনলোড গতি দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৭৮ এমবিপিএসে।

গত এক বছরে মোবাইল ইন্টারনেটে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড গতি ছিল চলতি বছরের এপ্রিলে, ১০ দশমিক ৮৪ এমবিপিএস। গত জুলাইয়ে মোবাইল ইন্টারনেটের ডাউনলোড গতিতে বিশে^র ১৪০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৩০তম। এর মানে, বর্তমানে বিশে^ যেসব দেশের মোবাইল ইন্টারনেট সেবার মান সবচেয়ে নিম্নমানের, সেসব দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১তম। এখনো মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ সবচেয়ে পিছিয়ে। যদিও দেশে ফাইভজি চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু চালু থাকা ফোরজি সেবা নিয়েই অনেক অসন্তোষ রয়েছে গ্রাহকদের। বাংলাদেশের নিচে রয়েছে সুদান, তানজানিয়া, সোমালিয়া, তাজিকিস্তান, ইয়েমেন, ঘানা ও আফগানিস্তানের মতো দেশ।

ওকলার পরীক্ষা বলছে, ইন্টারনেটের গতির দিক দিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে জিম্বাবুয়ে, শ্রীলঙ্কা, ভারত, পাকিস্তান ও নেপাল। ইন্টারনেটের ডাউনলোডের গতিতে পাকিস্তানের অবস্থান ১১৪তম। দেশটিতে গত জুলাইয়ে মোবাইল ইন্টারনেটে ডাউনলোডের গতি ছিল ১৪ দশমিক ৩৩ এমবিপিএস। অর্থনৈতিক সংকটে থাকা এ দেশটিরও চলতি বছরে কমেছে। মোবাইল ইন্টারনেটে ভারতের অবস্থান ১১৭তম। আফ্রিকার দেশ উগান্ডা রয়েছে ৯৪তম অবস্থানে। মোবাইল ইন্টারনেটে সবচেয়ে ভালো গতি পাওয়া যায় উপসাগরীয় দেশগুলোতে। বর্তমানে এক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে আরব আমিরাত, যেখানে মোবাইল ইন্টারনেটে ডাউনলোড গতি হচ্ছে ১২০ দশমিক ৩৫ এমবিপিএস।