ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও ভারতে দাম বাড়ানোয় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি করলেও তা খালাস করছেন না আমদানিকারকরা। আমদানি শুল্ক ছাড়ের আশায় বন্দর থেকে চাল খালাস বন্ধ রেখেছেন তারা। ফলে বন্দরের অভ্যন্তরে ৮৫টি চাল বোঝাই ট্রাক আটকা রয়েছে। এদিকে ট্রাক থেকে চাল খালাস না করায় বিপাকে পড়েছেন ট্রাকচালকরা।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ বলেন, চালের আমদানি শুল্ক কমানোয় ও চাল আমদানির অনুমতি পাওয়ায় আমরা চালের এলসি খুলে ভারত থেকে চাল আমদানি করছি। কিন্তু আমদানি শুল্ক কমানো ও আমদানির অনুমতি দেওয়ার খবরে ভারতের বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে আগের চেয়ে ডলারের দর বাড়ার কারণে চাল আমদানি করে আমাদের ব্যাপক লোকসান গুনতে হচ্ছে। যার কারণে আমদানিকারকরা বন্দর থেকে চাল খালাস নিচ্ছেন না। এতে করে বন্দরের অভ্যন্তরে শতাধিক চালের ট্রাক আটকা পড়েছে। আমরা আশায় আছি হয়তো বা সরকার আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করে নেবে।
চালের ওপর আরোপিত ২৫ ভাগ শুল্ক প্রত্যাহার করলে আমদানিকারকরা যেমন লোকসান থেকে বাঁচবেন তেমনি বন্দর থেকে চাল খালাস করে নেবেন; এতে করে বাজারে চালের সররবাহ বাড়ায় দাম কমে আসবে বলেও জানান তিনি।
চাল আমদানিকারক শহিদুল ইসলাম বলেন, ডলার দরের যে ওঠানামা এখন এক দাম একটু পরে আরেক দাম হচ্ছে, তাতে কি বুঝব কত দামে গিয়ে ঠেকবে ডলারের দাম। আমরা ভারত থেকে পণ্য আমদানি করে দেশে বিক্রি করছি এক মূল্যে আর পরে ব্যাংকে বিল ছাড়তে হচ্ছে বাড়তি মূল্যে। এতে করে চাল আমদানি করে আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
হিলি বাজারের চাল ব্যবসায়ী বাবুল হোসেন বলেন, সরকার নাকি চালের শুল্ক কমাবে এই আশায় আমদানিকারকরা চাল খালাস নিচ্ছেন না বন্দর থেকে। বন্দর থেকে যদি চালগুলো খালাস হয় তাহলে বাজারে আমদানিকৃত চাল প্রবেশ করবে, এতে করে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। বর্তমানে বন্দরে চাল আটকা থাকায় দেশীয় মিল মালিকরা এই সুযোগ নিয়ে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।
আমদানিকৃত চাল নিয়ে আসা ভারতীয় ট্রাকচালক গোলাম রাব্বানি বলেন, ভারত থেকে আমদানিকৃত চাল নিয়ে হিলি স্থলবন্দরে আসা ১৭দিন হয়ে গেল আমার। কিন্তু আজ পর্যন্ত ট্রাক থেকে সেই চাল খালি হয়নি। আমরা যে খাবার নিয়ে এসেছিলাম সেটি শেষ হয়ে গেছে। সঙ্গে যে টাকা-পয়সা নিয়ে এসেছিলাম সেটিও শেষ। এতে করে খেয়ে না খেয়ে আমাদের চরম কষ্টের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। আরও ১০/১৫দিন লাগবে এমন নানা ধরনের টালবাহানা করে চাল খালাস করছে না। আমরা চাই দ্রুত যেন চালগুলো খালাস করে আমাদের ভারতে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়।