গার্ডার দুর্ঘটনা

শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে আপত্তি নেই চীনের

রাজধানীর উত্তরায় গার্ডার দুর্ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে চীনের কোনো আপত্তি থাকবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরীর সঙ্গে সাক্ষাতে এ মতামত দেন চীনা রাষ্ট্রদূত। এ সময় তিনি বিআরটি প্রকল্পের গার্ডার দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে গভীর শোকপ্রকাশ করেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান। তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

চীনের তিনটি এবং বাংলাদেশের একটি কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে ওই সড়কে এ প্রকল্পের ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে। এর মধ্যে উড়াল সড়ক ও নিচের সড়ক নির্মাণের কাজ করছে (সিজিজিসি), জিয়াংশু প্রভিনশিয়াল ট্রান্সপোর্টেশন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ এবং ওয়েহেই ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল কো-অপারেটিভ।

রাষ্ট্রদূত জানান, ঢাকা বিআরটি প্রকল্পের সওজ অংশের নির্মাণে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তদন্তের জন্য চীন থেকে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। প্রতিনিধিদলটি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ কর্র্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নূরী বলেন, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সমগ্র জাতি ব্যথিত। তিনি যেকোনো উন্নয়নমূলক কাজে নিরাপত্তার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বলেন, ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটিতে বুয়েটের একজন বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে কমিটিকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ সময় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী একেএম মনির হোসেন পাঠান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নীলিমা আখতার, বিআরটি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সফিকুল ইসলাম, প্রকল্পের পরামর্শক টিমের প্রধান টিগ ম্যাকরিন ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত সোমবার বিকেলে উত্তরার জসীমউদ্দীন রোডে বিআরটি প্রকল্পের ক্রেন থেকে গার্ডার ছিটকে প্রাইভেট কারের ওপর পড়ে। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর ক্রেনচালক, তার সহকারী, নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মীসহ ১০ জনকে ঢাকা, গাজীপুর, সিরাজগঞ্জ ও বাগেরহাট থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।