দেশের চলমান ‘রাজনৈতিক সংকট’ নিরসনে সংলাপের কোনো পরিবেশ নেই বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত কোনো সংলাপ হতে পারে না। যতক্ষণ পর্যন্ত এ সরকার পদত্যাগ না করবে, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করবে, সংসদ বিলুপ্ত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত সংলাপের প্রশ্নই উঠে না।’
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
‘যে বুলেট শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে এতিম করেছে বেগম জিয়া সেই বুলেট আপনাকেও ছাড়েনি’ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এ বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে তারা রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে চান এবং জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত পরিকল্পনা রয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন নিশ্চয়ই আসে। এটা তাকে অবশ্যই জবাব দিতে হবে। কারণ তিনি সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রী, এটা প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ নেই। তিনি যদি বলে থাকেন তাহলে অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।’
‘মানবাধিকার ইস্যুতে বিএনপি যতগুলো অভিযোগ করেছে সবকিছু রাজনৈতিক’ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘তারা কি এ কথা স্বীকার করবেন? তিনি তো স্বীকার করে নিয়েছেন, আমি তো টেলিভিশনে দেখলাম তিনি বক্তব্যে বলেছেন জাতিসংঘের কোনো ক্ষমতা নেই গুম বা অপহরণ হয়ে যাওয়া বিষয়গুলোর বিচার করার। তার মানে এগুলো সংঘটিত হয়েছে এটা স্বীকার করছেন।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকারকে একটি আলাদা কমিশন গঠন করে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা তদন্ত করার সুপারিশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট। তাদের দেওয়া বিবৃতিতে যা উঠে এসেছে সেটা আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি, তার সত্যতা প্রমাণ হয়েছে। আমরা জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে স্বাধীন তদন্ত চাই, জড়িতদের বিচার চাই।’
গত বুধবার আওয়ামী লীগের সমাবেশে দলটির নেতাদের বিভিন্ন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সমাবেশ থেকে আওয়ামী লীগের নেতারা হুংকার দিয়েছেন। বলা যেতে পারে হুমকি দিয়েছেন বিভিন্নভাবে। এটাই তাদের চরিত্র। এভাবে তারা সব সময় বিরোধী দলকে দমন করতে চায় এবং যে ধরনের ভাষা তারা ব্যবহার করেছে সেই ভাষা সম্পূর্ণ সন্ত্রাসের ভাষা।’
চা-শ্রমিকরা তাদের বেতন বাড়ানোর জন্য যে আন্দোলন করছেন তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তাদের আন্দোলনের প্রতি আমাদের সমর্থন রয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সুস্থ আছেন। তার শারীরিক অবস্থার এমন কোনো অবনতি হয়নি যে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা কামরুজ্জামান রতন, সাঈদ সোহরাব, ওবায়দুর হক নাসির, শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন দিদার প্রমুখ।