গরমে শিশুর নরম পোশাক

সুতির পোশাকই শিশুর জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক। তবে দুর্বিষহ এই তাপমাত্রায় সিøভ ও হাফ সিøভ পোশাকই বেশি চলছে। আবার হাফ স্লিভ ফতুয়া, সুতি টি-শার্টেও স্বস্তি মিলছে ভাদ্রের গরমে। পোশাকের বাজার ঘুরে শিশুর এসময়ের পোশাকের হালচাল জানালেন মোহসীনা লাইজু

গরমের দিনগুলোতে সবার আগে খেয়াল রাখতে হয় শিশুর দিকে। খাবার থেকে পোশাক সবকিছু যেন তার জন্য আরামদায়ক হয়। মোটা ও সিনথেটিক কাপড়ের পোশাক হলে ঘামে ভিজে শিশুর ঠান্ডা লাগতে পারে। এমনকি অনেক সময় শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ার শঙ্কা থাকে। বেশি গরমে শিশুর গায়ে ঘামাচিও দেখা দেয়। এ সময় শিশুর জন্য বেছে নিন আরামদায়ক পাতলা কাপড়ের পোশাক। যেটা পরলে সে সহজে ঘেমে যাবে না কিংবা শরীরে র‌্যাশ উঠবে না। সম্ভব হলে দিনে কয়েকবার পোশাক পরিবর্তনও করতে হবে।

শিশুর পোশাকের ক্ষেত্রে রংও খুব গুরুত্বপূর্ণ। গরমের সময় হালকা রংকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত। রঙিন বা গাঢ় রঙের কাপড় সহজে তাপ শোষণ করে। এতে বেশি গরম লাগবে। হালকা গোলাপি, হালকা নীল, আকাশি, ধূসর, হলুদ, সবুজ ও লেবু রঙের কাপড়ের কাপড় দেখা যাচ্ছে ফ্যাশন হাউসগুলোতে। এ ছাড়া রয়েছে, কমলা ও উজ্জ্বল সবুজ রঙের কাপড়ও পাবেন। মেয়েশিশুদের পোশাকে নকশা ও কাটিংয়ে রয়েছে বিশেষ ভিন্নতা। গরমে এলাইন কাট, হাতাকাটা পোশাক ছাড়াও ঘটি হাতার ফ্রক ও টপসের কালেকশন রয়েছে।

নবজাতক থেকে শিশু সবার জন্য বিশ্বস্ত ও পছন্দের ব্র্যান্ড হতে পারে আড়ং। কারণ কাপড়ের মূল বৈশিষ্ট্য হলো পোশাকের আরাম। দেশীয় তাঁত ও সুতি কাপড়ের আরামদায়ক পোশাক পাবেন এখানে। ছেলেশিশুদের জন্য নিমা, ফতুয়া, কুর্তা, হাফ শার্ট সঙ্গে শর্ট প্যান্ট ও থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট পাবেন। আবার মেয়েশিশুদের জন্য আছে এলাইন কাট ফ্রক, স্কার্ট ও টপস। ছেলেশিশুদের দাওয়াতের জন্য আছে সুতির পাঞ্জাবি, স্ক্রিন প্রিন্টের হাফ শার্ট। মেয়ে শিশুদের জন্য আছে সিøভলেস সালোয়ার কামিজ, সারারা ও লেহেঙ্গা।

ফ্যাশন ব্র্যান্ড বেবি শপের উত্তরার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার এহসানুল হক বলেন, ‘এ সময় শিশুদের পোশাক হওয়া উচিত একদম পাতলা, হাতা কাটা ও ঢিলেঢালা। যাতে শিশুর শরীরে সহজেই বাতাস প্রবেশ করতে পারে। হালকা রঙের পোশাকই এ সময় বেশি উপযোগী। আর এ ধরনের পোশাকই এখানে বেশি বিক্রি হচ্ছে। ’

গরমে নবজাতক থেকে শুরু করে ১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য উপযোগী সুতি, লিলেন ও গেঞ্জি কাপড়ের বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক আছে। আরামদায়ক উপকরণ হিসেবে ডিজাইনাররা বেছে নিয়েছেন এসব নরম কাপড়। যেমন : সুতি, মলমল কটন, লিলেন ও নরম ডেনিম। আর রং হিসেবে বেছে নিয়েছেন সাদা, ছাই, আকাশি কিংবা গোলাপি, লাল, নরম হলুদ ও নীলের হালকা শেডগুলো। ছেলে ও মেয়েশিশুদের পোশাকে খুব একটা পার্থক্য দেখা যায়নি। ছেলেদের জন্য আছে ঢিলেঢালা গেঞ্জি, টি-শার্ট, ফতুয়া, নিমা, হাফপ্যান্ট ও থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট, ট্রাউজার ও ফুলপ্যান্ট। মেয়েদের জন্য এসব ছাড়াও পাওয়া যাচ্ছে টপ, ফ্রক, স্কার্ট, কুর্তি ইত্যাদি।

এই গরমে শিশুর পোশাক কেমন হবে জানালেন ফ্যাশন হাউজ রঙ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী সৌমিক দাস। তিনি জানালেন, গরমে পোশাকটি পরে যেন শিশু স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। স্কুল থেকে ফেরার পর দুপুরে বা বিকেলে ছেলেশিশুরা পাতলা নিমা বা টি-শার্ট ও ট্রাউজার পরতে পারে। বিকেলে খেলাধুলার সময় হাতা কাটা টি-শার্ট ও গ্যাবার্ডিনের হাফপ্যান্ট বা থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট দিতে পারেন। আর রাতে ঘুমানোর সময় গেঞ্জি কাপড়ের ট্রাউজার ও পাতলা টি-শার্ট পরতে পারে। কোথাও ঘুরতে গেলে টি-শার্ট, হাফ হাতা শার্ট, পাতলা জিনস বা গ্যাবার্ডিনের প্যান্ট বেছে নিতে পারেন শিশুর জন্য। মেয়েদের বেলায় বাসায় পরার জন্য পাতলা কাপড়ের নিমা, টিশার্ট, ট্রাউজার ভালো হবে। বাইরে ঘুরতে গেলে সুতি কাপড়ের ফ্রক বা শার্টের সঙ্গে থ্রি-কোয়ার্টার লেগিংস অথবা নরম জিনস, কুর্তির সঙ্গে ট্রেন্ডি প্লাজো পরতে পারে অনায়াসেই। অনেক নকশা আছে এ রকম পোশাক এ সময় শিশুকে না পরানোই ভালো। চেষ্টা করতে হবে গরমের দিনে অন্তত চারবার পোশাক পরিবর্তন করা। খেলাধুলা, ঘুমানো কিংবা বাসায় পরার জন্য আলাদা পোশাক নির্বাচন করা যেতে পারে। দাওয়াতেও সুতির পোশাকই প্রাধান্য দিন।

শুধু শিশুদের পোশাক তৈরি করে থাকে অনলাইন ফ্যাশন ব্র্যান্ড পিনন। এই গরমে তারা তৈরি করেছে বিভিন্ন ধরনের সুতির হ্যান্ড পেইন্টের পোশাক। পিননের স্বত্বাধিকারী শিলা দাস জানালেন, সব সময়ই বাংলাদেশের আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখেই শিশুর পোশাক বেছে নিতে হবে। এই গরমে শিশুদের পোশাকটা যেন আরামদায়ক হয়, তাই আমরা হালকা রঙের সুতি, লিলেন ও নরম গেঞ্জি কাপড়ের পোশাক তৈরি করেছি। এর ওপর হ্যান্ড পেইন্টে শিশুতোষ নকশা করেছি। দেশীয় ব্র্যান্ড দেশালেও পাবেন শিশুদের উপযোগী তাতের স্টাইপ বুননে ফতুয়া ও ফ্রক। এ ছাড়া আছে নানা ছড়া ও কার্টুন অঙ্কিত টি-শার্ট।

দরদাম

ধরন ও উপকরণের ওপর ভিত্তি করে  পোশাকগুলোর দাম পড়বে ৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা। একটু কম দামের জন্য বেছে নিতে পারেন রাজধানীর নিউ মার্কেট, নুরজাহান মার্কেট, বঙ্গবাজার, মৌচাক মার্কেট ও তালতলা মার্কেট। গেঞ্জি, টি-শার্ট, হাফ হাতা শার্ট পাবেন ৮০ থেকে ৩০০ টাকায়, গ্যাবার্ডিন ও জিনসের প্যান্টগুলোর দাম পড়বে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং মেয়েদের ফ্রক, স্কার্ট ও টপ পাবেন ২৫০ থেকে ৫০০ টাকায়।

কোথায় পাবেন

শৈশব, আড়ং, নিপুণ, রঙ বাংলাদেশ, অঞ্জন’স, দেশাল, যাত্রা, ক্যাটস আই কিডস, লা রিভ, মেনজ ক্লাব, সীমান্ত স্কয়ার, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্কসহ বিভিন্ন শপিং সেন্টারেই পাবেন এই পোশাকগুলো। এ ছাড়া নিউ মার্কেট ও বদরুদ্দোজা মার্কেটে আছে শিশুদের জন্য নানা ধরনের পোশাক।