প্রায় চার বছর ধরে হাইকোর্টে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার শুনানি শিগগির শুরু হতে পারে। চাঞ্চল্যকর এ মামলার শুনানি হবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে। আইন ও বিচারমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা সম্প্রতি এ মামলা দ্রুত শুনানির উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতির কাছে ইতিমধ্যে আবেদন করা হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন সম্প্রতি তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘মামলাটি রাষ্ট্রীয় জীবনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলা। কারণ এ হামলার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক প্রচেষ্টাকে ধ্বংস করার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। সেই কারণে এ মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য বেঞ্চ ঠিক করতে প্রধান বিচারপতির কাছে একটি দরখাস্ত করেছি। আশা করি সুপ্রিম কোর্টের অবকাশের (আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত অবকাশ) পরে প্রধান বিচারপতি বেঞ্চ ঠিক করে দেবেন।’
মৃত্যুদ- ও যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্তদের দন্ড বহাল রাখতে শুনানিতে আরজি থাকবে বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।
২০১৮ সালের অক্টোবরে বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত ১৯ জনের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদন্ড অনুমোদন) নথি ওই বছরের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ার পর মৃত্যুদ-, যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত ও কারাগারে থাকা আসামিরা আপিল করেন। ৪৪টি আপিল ২০১৯ সালের ১৩ জানুয়ারি হাইকোর্ট শুনানির জন্য গ্রহণ করে আপিলকারী দন্ডিতদের অর্থদন্ড স্থগিতের আদেশ দেয়। ২০২০ সালের মধ্য আগস্টে আলোচিত এ মামলার পেপারবুক (মামলার রায়ের অনুলিপিসহ যাবতীয় নথি) প্রস্তুত হয়। দুটি মামলায় (হত্যা ও বিস্ফোরক) মোট ২১ হাজার পৃষ্ঠার এ নথি প্রস্তুত করা হয়েছে। হত্যা মামলায় ১৩টি ভলিউমে মোট ৫৮৫টি পেপারবুক রয়েছে, যার পৃষ্ঠাসংখ্যা সাড়ে ১০ হাজার। অপরদিকে বিস্ফোরক মামলায় ১১ ভলিউমে ৪৯৫টি পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি ১০ হাজার পৃষ্ঠার।
একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় ঢাকার দ্রুত বিচার আদালত-১ হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে ১৯ জনকে মৃত্যুদন্ড ও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়। মৃত্যুদন্ড পাওয়া আসামিদের মধ্যে হামলার সময়কার বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, তার ভাই জঙ্গি তাজউদ্দিন, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সাবেক দুই মহাপরিচালক রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী রয়েছেন। এই আসামিদের ১ লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়। এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপি নেতা শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের পাশাপাশি তাদের ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড দেওয়া হয়। সরকারি কর্মচারী হয়েও ওই ঘটনার পর অপরাধীদের রক্ষার চেষ্টা করার অভিযোগে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) মো. আশরাফুল হুদা ও শহুদুল হকসহ ১১ জনকে সর্বনিম্ন দুই বছর এবং সর্বোচ্চ তিন বছর করে কারাদন্ড দেয় আদালত।
দন্ডপ্রাপ্ত ৫২ আসামির মধ্যে তারেক রহমান, কায়কোবাদ, তাজউদ্দিনসহ ১৮ জন মামলার শুরু থেকেই পলাতক। আইনের বিধান অনুযায়ী বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে পলাতক থাকা অবস্থায় আপিলের সুযোগ নেই।
মামলার অগ্রগতির বিষয়ে গত বুধবার আইন ও বিচারমন্ত্রী আনিসুল হক ঢাকার তেজগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই মামলার বিচার করতে গিয়ে জজ মিয়া নাটক সাজানো হয়েছে। সে কারণে অধস্তন আদালতে বিচার শেষ হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এটি এখন উচ্চ আদালতে আছে। খুব শিগগির এই মামলার শুনানি শুরু করা হবে। এ ব্যাপারে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা হয়েছে।’