ঝালকাঠির রাজাপুরে বাড়ি থেকে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময় ঘরটি থেকে আরও তিনজনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। গতকাল শনিবার সকালে সাতুরিয়া ইউনিয়নের চান্দের বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেশীরা জানান, হতাহতদের যে কক্ষটি থেকে উদ্ধার করা হয়, সেটিতে থাকা শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে (এসি) গতকাল সকালে তারা বিকট শব্দ শুনতে পান। ধারণা করা হচ্ছে, এরপরই বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে ওই কক্ষে। তাতে সেখানে ঘুমিয়ে থাকা পাঁচজনই অসুস্থ হয়ে পড়েন।
লাশ উদ্ধার হওয়া দুজন হলেন ফোরকান হাওলাদার (৪৫) ও তার স্ত্রী মাহিনুর বেগম (৪০)। অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া তিনজন হলো মারা যাওয়া ফোরকান হাওলাদারের ছেলে মাইনুল ইসলাম (১৪), ছোট ভাইয়ের স্ত্রী মাহফুজা বেগম (৩২) ও ভাইয়ের মেয়ে সারা মণি।
পুলিশ ও হতাহতদের প্রতিবেশীরা জানান, সাতুরিয়ার আমতলা বাজারের ব্যবসায়ী ফোরকান হাওলাদার শুক্রবার রাতে জেনারেটর চালিয়ে বাড়ির একটি কক্ষে এসি ছেড়ে স্ত্রী, ছেলে, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও ভাতিজিকে নিয়ে ঘুমাতে যান। গতকাল সকাল থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বড় ভাই সেলিম হাওলাদার বেলা ১১টার দিকে লোকজন নিয়ে গেটের তালা ভেঙে ভেতরে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। এর মধ্যে ব্যবসায়ী ফোরকান হাওলাদার ও তার স্ত্রী মাহিনুর বেগমকে মৃত এবং অন্যদের অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।
অচেতন অবস্থায় যাদের উদ্ধার করা হয়েছে তাদের প্রথমে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে সেখান থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে ছোট ভাই রুবেলের বাড়ির একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন ফোরকান হাওলাদার, তার স্ত্রী ও পবিবারের অন্য সদস্যরা। রুবেল ঢাকায় থাকেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়েক দিন ছোট ভাইয়ের বাড়িতেই থাকছিলেন ফোরকান ও তার পরিবারের সদস্যরা।
ফোরকান হাওলাদারের বড় ভাই সেলিম হাওলাদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সকালে ফজরের নামাজের পরে আমি ধানের ক্ষেতে যাই। বেলা ১১টার দিকে ছোট ভাই (রুবেল) আমাকে ফোন করে বলে তার ঘর বন্ধ। মেজো ভাইকে (ফোরকান হাওলাদার) ফোন করেও পাওয়া যাচ্ছে না। আমি ক্ষেত থেকে সাথে সাথে চলে আসি। এরই মধ্যে আশপাশের লোকজনও বাড়ির সামনে জড়ো হয়। আমি আমার ছেলেকে ঘরের গ্লাস ভেঙে ভেতরের অবস্থা কী দেখতে বললে ছেলে অন্যদের সহায়তায় গ্লাস ভেঙে পাঁচজনকেই অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখতে পায়। পরে আমরা বাড়ির গেটের তালা ও ঘরের দরজা ভেঙে সবাইকে উদ্ধার করি।’
বাড়িটি থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া মাহফুজা বেগম বলেন, ‘জেনারেটরের বিদ্যুতের কারণে রাতে এসিতে কয়েক বার ছোট শব্দ হয়। জেনারেটরের ধোঁয়া ও গ্যাসের গন্ধ পেয়ে রাতে ঘুম ভেঙে গেলে বিছানা থেকে ওঠার চেষ্টা করেও শরীর ক্লান্ত অনুভব করায় উঠতে পারিনি। পরে শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে।’
মাহফুজা জানান, কয়েক দিন ধরে চলা বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিদ্যুৎ না থাকায় শুক্রবারই নতুন একটি পেট্রলচালিত জেনারেটর কিনে আনা হয় বাড়িতে। তা দিয়ে এসিসহ ঘরের সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চালানো হয়েছিল।
রাজাপুর থানার ওসি পুলক চন্দ্র রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ফোরকান হাওলাদার ও তার স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’
ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী ও পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।