বীমা দাবির ১০২ কোটি টাকা পেয়েছেন প্রবাসী শ্রমিকরা

প্রবাসে নিহত শ্রমিকদের পরিবার গত আড়াই বছরে বীমা দাবির ১০২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা পেয়েছে। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বিদেশে মারা যাওয়া ২ হাজার ৫৬২ বাংলাদেশি শ্রমিকের করা বীমা দাবি পরিশোধ করেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জীবন বীমা করপোরেশন। নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে ৪ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। 

২০১৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর থেকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড প্রবাসী শ্রমিকদের মৃত্যু বা শারীরিক অক্ষমতার ক্ষেত্রে সুবিধাসহ আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য বাধ্যতামূলক বীমা সুবিধা চালু করে। তখন বাধ্যতামূলক বীমা কভারেজ বাস্তবায়নের জন্য জীবনবীমা করপোরেশনের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড।

২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭৮৩ শ্রমিকের পরিবারকে দেওয়া হয়েছে ৩১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। ২০২১ সালে ১ হাজার ২০৬ শ্রমিকের পরিবার পেয়েছেন ৫২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ৪৭৩ শ্রমিকের পরিবার পেয়েছে ১৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

২০১৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১০ মে পর্যন্ত ১৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৮৯ জন বিদেশগামী কর্মী এই বীমা কাভারেজের আওতায় এসেছেন। এই সময়ের মধ্যে তারা মোট বীমা প্রিমিয়াম পরিশোধ করেছেন ৮১ কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি।

১৮ থেকে ৫৮ বছর বয়সী প্রবাসী কর্মীরা এককালীন ৪৯০ টাকার প্রিমিয়াম পরিশোধ করে দুই বছরের জন্য ৪ লাখ টাকার মৃত্যুঝুঁকি ও দুর্ঘটনাজনিত অঙ্গহানির সুবিধা পাচ্ছেন। শ্রমিক ও পরিবার তাদের মৃত্যু বা অক্ষমতার ক্ষেত্রে এই টাকা পাবেন। জীবনবীমা করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হলে নতুন করে আবারও চুক্তি করবে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক (অর্থ ও কল্যাণ) শোয়াইব আহমাদ খান গতকাল রবিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রবাসী বীমার সুবিধা বৃদ্ধি এবং প্রিমিয়ামের পরিমাণ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। শ্রমিকদের সেবা দেওয়ার পাশাপাশি তারা যাতে বোর্ডের সুবিধা পায় তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পলিসির মেয়াদকালে বীমা গ্রাহকের মৃত্যুর ক্ষেত্রে নমিনি শতভাগ সুবিধা পাবেন। এ ছাড়া দৃষ্টিশক্তি, হাত-পা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে শ্রমিকরা শতভাগ সুবিধা পাবেন। যদি এই অঙ্গগুলো আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে তারা আঘাতের মাত্রার ওপর নির্ভর করে ১০ থেকে ৫০ শতাংশ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবে। সরকারি নীতিনির্ধারকরা অবশ্য জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখা প্রবাসীদের সুবিধা আরও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসে কর্মরত শ্রমিকরা কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার পরও পর্যাপ্ত সার্ভিস পয়েন্ট না থাকায় ক্লেইম করতে পারছে না। এজন্য বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রয়োজনীয় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিদেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিশনগুলোতে ব্যানার, ফেস্টুন টাঙানো ও লিফলেট বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।

বর্তমানে চালুকৃত প্রবাসী কর্মী বীমার মেয়াদ ২ বছর। একজন প্রবাসী দীর্ঘদিন বিদেশে থাকলেও পলিসির মেয়াদ শেষ হলে নতুন করে পলিসি নবায়ন করেন না। প্রবাসীদের সুরক্ষার জন্য পলিসি চলমান রাখতে বিদেশগামীদের পাসপোর্টের মেয়াদকালীন পর্যন্ত প্রবাসী কর্মী বীমা চালু করার চিন্তা করছে সরকার। এক্ষেত্রে বিদেশে অবস্থিত মিশনে যখন প্রবাসী কর্মীরা পাসপোর্ট নবায়ন করতে যাবেন, তখন প্রবাসী কর্মী বীমার পলিসি গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে সৌদি আরব সফরে গিয়ে সেখানে কর্মরত বাংলাদেশিদের পূর্ণ বীমা সুবিধা প্রদানের নির্দেশনা দেন। পরে জীবনবীমা করপোরেশন ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড যৌথভাবে প্রবাসী কর্মী বীমা চালু করে। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে প্রবাসী কর্মী বীমার পলিসি গ্রহণ না করে কোনো শ্রমিক বিদেশে কাজে যেতে পারছেন না।