ডিএসসিসির ৮৪ শতাংশ এলাকা ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে

৭৫ ওয়ার্ডের ২৭টি চরম ঝুঁকিপূর্ণ

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:০১ এএম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নিজস্ব জরিপেই ৬৩টি ওয়ার্ড ডেঙ্গু ঝুঁকিতে রয়েছে। সে হিসাবে সংস্থাটির ৭৫টি ওয়ার্ডের ৮৪ শতাংশ এলাকাই ডেঙ্গু ঝুঁকিতে রয়েছে। একই জরিপে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ২৭টি ওয়ার্ডকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার নগর ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ‘বর্ষাপূর্ব এডিস মশার লার্ভা জরিপ’ এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

জরিপে বলা হয়, ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ৩৬ জন কর্মী গত ১২ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত ২ হাজার ২৫০টি বাড়িতে তথ্য সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে ২৮১টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা শনাক্ত হয়।

স্থাপনার ধরন অনুযায়ী বহুতল ভবনে সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ২৩ শতাংশ, একক বা স্বতন্ত্র বাড়িতে ২৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ, নির্মাণাধীন ভবনে ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং সেমিপাকা বাড়িতে ১৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রজননক্ষেত্র হিসেবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ছিল মেঝেতে জমে থাকা পানি (১২ দশমিক ২৬ শতাংশ), বালতি (১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ) এবং প্লাস্টিক ড্রাম (৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ)।

ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এ জন্য নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বাসাবাড়ি ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখা এবং প্রতি তিন দিন অন্তর জমে থাকা পানি অপসারণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সঠিক তথ্য প্রচারের জন্য তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, এই জরিপের ওপর ভিত্তি করে আগামী রবিবার থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ২৭টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সমন্বয়ে পাঁচ দিনব্যাপী ‘বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ চালানো হবে। পরবর্তী সপ্তাহে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ৩৬টি ওয়ার্ডেও একই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

এ ছাড়া, আগামীকাল শনিবার ধানম-ির রবীন্দ্র সরোবর থেকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে, যা পরবর্তী সময়ে অন্যান্য এলাকাতেও পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত