কিক অফে নেইমার বল দিলেন বৃত্তের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা ভেরাত্তিকে। ভেরাত্তি ফিরিয়ে দিলেন বল নেইমারকে। একটু এগিয়ে আসা মেসিকে বল দিলেন এবার নেইমার। আর্জেন্টাইন বাঁ পায়ে লব করলেন বাঁ দিক দিয়ে এগিয়ে যাওয়া এমবাপেকে। লিলের বক্সের অর্ধবৃত্তের বাইরে ড্রপ খাওয়া বল আগুয়ান গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে উঠিয়ে দিলেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। গোল! সব মিলিয়ে ৮.৩ সেকেন্ড। ৩০ বছরের মধ্যে লিগ ওয়ান ইতিহাসের দ্রুততম এই গোলে হতচকিত লিলের ওপর বাকি সময় স্টিমরোলার চালিয়ে ৭-১ গোলের জয় তুলে নিয়েছে পিএসজি।
দ্রুততম গোল করেই থামেননি এমবাপে; হ্যাটট্রিক করেছেন, যার একটি নেইমারের পাস থেকে, যার সঙ্গে পেনাল্টি নেওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব মেটাতে হয়েছে নতুন কোচকে। নেইমার নিজেও করেছেন দু’গোল। গোল করেছেন মেসি আর হাকিমিও। এর চেয়ে বড় জয় আর একটিই আছে তাদের ইতিহাসে। ২০১৬তে ইব্রাহিমোভিচের চার গোলে ট্রয়েসকে ৯-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল প্যারিসিয়ানরা।
৮ সেকেন্ডে গোলটি অনেক গবেষণার ফল বলে খেলা শেষে জানান কোচ গালতিয়ে, ‘আমরা বিভিন্ন লিগের ভিডিও ফুটেজ দেখেছি, এমনকি যুব লিগে আমাদের যুব দল থেকেও, গত মৌসুমে সালসবুর্গের বিপক্ষে তারা কিক অফের পর গোল করেছিল। ম্যাচের আগের দিন আমরা এটি নিয়ে কথা বলেছি, ফুটেজ দেখেছি, অনুশীলনে এটির চর্চা করেছি। ৮ সেকেন্ডে গোল করার মতো কাক্সিক্ষত ফল মিললে খুবই ভালো লাগে। গোলটি প্রতিপক্ষকে নাড়িয়ে দিয়েছিল, তাদের মতো দলের বিপক্ষে দল এমন দুর্দান্ত খেললে অবশ্যই কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়।’
ক্লেমঁকে ৫-০, মঁপেলিয়েরকে ৫-২, এবার লিলেকে ৭-১ গোলে হারাল ছেলেরা। কোচ গালতিয়ে উড়ছেন যেন, ‘জয় নিয়ে আমি খুব সন্তুষ্ট। খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়াটা দারুণ। একা নয়, দলের জন্য খেলার আগ্রহটাও দেখা গেছে। যখন বড় স্কোর হয়েছে তখনো তারা দলের জন্যই খেলেছে।’
আগের মৌসুম ধরলে আরও একটি রেকর্ডও গড়েছে পিএসজি। লিগে প্রথম দল হিসেবে টানা ছয় অ্যাওয়ে ম্যাচে অন্তত তিনটি করে গোল করল।